ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিত্সক সংকট, এক্সরে মেশিন নষ্ট প্যাথলজি বন্ধ, নেই পরিচ্ছন্ন কর্মী!

ভাঙ্গা উপজেলায় বসবাসরত ৫ লক্ষাধিক লোকের একমাত্র সরকারি চিকিত্সা কেন্দ্র ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে কাগজ কলমে ২২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে আটজনই নিয়মিত রোগীদের সেবা প্রদান করতে পারছে না। তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কাজে হাসপাতালের বাইরে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান এক্সরে মেশিনটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দক্ষকর্মীর অভাবে ও যন্ত্রপাতি অকেজো থাকায় প্যাথলজি বিভাগ প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। তাছাড়া হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন কর্মী নেই দীর্ঘদিন ধরে। সব মিলিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে ভাঙ্গা উপজেলা হাসপাতাল।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. হাসেম শেখ জানান, ভাঙ্গা উপজেলার জনগণের জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ভাঙ্গা হাসপাতালটি দীর্ঘ দিনের পুরানো। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের রোগীর ভিড় হয়। ডাক্তার সংকট আর প্যাথলজিক্যাল বিভাগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সেবা দিতে পারছি না। আমি ও কর্মরত ডাক্তাররা মিলে নিজস্ব তহবিল হতে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছি। এখানে যদি চাহিদামত ডাক্তার পাওয়া যেত তবে রোগীরা প্রকৃত সেবা পেত। আমি হাসপাতালে যোগদানের পর মাতৃসেবা চালু করি এবং তাদের সিজারিং ব্যবস্থা শুরু করি। শুরুর কয়েকদিন পরেই কে বা কারা সিজারিং বিভাগের তালায় কেমিক্যাল দিয়ে নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সহায়তায় চালু করতে পারলেও তা বেশীদিন চালু থাকেনি। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাংঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে ক্লিনিক। ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্যর কারণে এখানে ভাল ডাক্তার এসে বেশীদিন থাকতে পারে না। আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরিভিত্তিতে বিষয়টি নজর এনে ডাক্তার সংকটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উপজেলা আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জুয়েল রহমান বলেন, আমি নিজেই সার্বক্ষণিক জরুরিবিভাগ দেখাশুনাসহ প্রশাসনিক কাজ করি। একই সাথে অফিস টাইমে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দিই। তবে এতে হিমশিম খেতে হয়। জরুরিভিত্তিতে যদি এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগ চালু করা হয় তবে গরিব রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে জেলা সদরসহ ক্লিনিকগুলোতে যেতে হবে না।