গোলখরায় ভুগবে না বাংলাদেশ

প্রতিপক্ষের চেয়ে সহযোদ্ধার সঙ্গে লড়াইটাই এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার মতিন মিয়ার কাছে। জাতীয় দলে আগেও খেলেছেন। কিন্তু এই স্ট্রাইকার মতিন মিয়া এখনো গোলের দেখা পাননি। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ক্লাব জার্সি গায়ে খেলছেন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে। গোল করেছেন। কিন্তু মনের মধ্যে গোলের ক্ষুধাটা রয়ে গেছে। ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলব অথচ গোল পাব না, এটা কী করে হয়। সিলেটের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মতিন মিয়া জাতীয় দলে গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।’ তবে তার সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। আবাহনীর এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে মতিন মিয়ার গোলযুদ্ধটা হবে ভালো। তবে তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে, কাতার বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ ফুটবল এই দুই বাছাইয়ে বাংলাদেশ গ্রুপে সব কঠিনতম দলগুলো লড়াই করবে। বিশ্বকাপ আয়োজক কাতার, ভারত, ওমান এবং আফগানিস্তান। ফিফার র্যাংকিংয়ে সব দলই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ওপরে। এত সব দলের বিপক্ষে গোল পেতে কতোটা আত্মবিশ্বাসী মতিন মিয়া? ‘বলতে গেলে আমাদের লিগে ভালো একটা মৌসুম গেছে। আর তাতে আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেড়ে গেছে। সেটা এই জাতীয় দলে কাজে লাগাতে চাই। যেমন ধরেন আগে জাতীয় দলে স্কোরার খুব কম ছিল, লিগে অনেকেই গোল পেয়েছে এবং নতুন অনেকেই গোল করেছে। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসের লেভেলটা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। স্ট্রাইকারদের মূল কাজই হলো ফিনিশিং। সেটা করতে পারলে সবাই বলবে যে, স্ট্রাইকার গোল করেছে, স্ট্রাইকার ফিনিশিং করেছে। আমার মনে হয় যে, আত্মবিশ্বাস লেভেলটা যে পর্যায়ে আছে, আন্তর্জাতিকভাবে আশা করি গোল করতে পারব’—বললেন মতিন মিয়া। এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি গোল করতে না পারলে জীবন ভাই গোল করেছে, আবার জীবন ভাই গোল না করতে পারলে আমি। এরকম অনেক খেলোয়াড়ই আছে। তাই আশা করি এবার স্কোরারের জন্য কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা ভালো কিছু করব। জাতীয় দল ভালো কিছু করবে।’ মতিন মিয়া বলেন, ‘প্রথম গোল একটা স্ট্রাইকারের জন্য অনেক বড়ো বিষয়। কিন্তু আমি এখনো সেটা পাইনি। বলতে গেলে আমি জাতীয় দলে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। সুযোগ পেলে আমি কাজে লাগাতে চাই। জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে চাই। তখন সবাই বলবে আমি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল পেয়েছি।’

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রাথমিক জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন চলছে। স্ট্রাইকাররা যেমন ঘাম ঝরাচ্ছেন তেমনি রক্ষণভাগেও অনুশীলন চলছে প্রতিপক্ষ ঠেকানোর। জাতীয় দল নিয়ে ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান খুব আশাবাদী। বলছিলেন, ‘আগের চেয়ে ডিফেন্সিভ লাইন অনেক ভালো। আর দলে বেশিরভাগ তরুণ ফুটবলার। আমরা সিনিয়র আছি ৪-৫ জন। সবার ভেতরে ফাইটিং টেন্ডেসি কাজ করছে। আর দেখতেই তো পারছেন এই গরমের মধ্যে হার্ডওয়ার্ক করছে সবাই। দুই-তিন ধরে অনুশীলন করছে। আশা করা যায় ভালো কিছু আসবে।’

তাজিকিস্তানে ১০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের। খেলা হবে টার্ফের মাঠে। বাংলাদেশ অনুশীলন করছে ঘাসের মাঠে। আবারও টার্ফ নিয়ে কথা উঠল কোচ জেমি ডের কাছে। সবার জবাবে বললেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে যে টার্ফ, ওখানকার টার্ফ একরকম না। ঐ জায়গার ঘাসটাও একই রকম।’  জেমি বললেন, ‘আফগানদের হোম ম্যাচ কিন্তু তাজিকিস্তানে। তাদের জন্যও তো এক প্রকার অ্যাওয়ে ম্যাচ। ম্যাচটা ফিফটি-ফিফটি চান্স। এখানে যে ভালো করবে তারই জেতার চান্স আছে। আফগানিস্তানের শেষ যে ম্যাচগুলো দেখে দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করেছি। বর্তমানে কোচ আমরা সেগুলোর ওপরই বেশি জোর দিয়েছি, এখন দেখা যাক আমরা কী করতে পারি।’