মুগ্ধ করলেন জাদুকরী সালাহ

প্রতিপক্ষ আর্সেনাল হলেও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জয় পেতে খুব একটা বেগ পেতে হলো না লিভারপুলকে। কারণ, দলে যে মোহাম্মদ সালাহর মতো একজন মহীরুহ আছেন। তার জোড়া গোলে নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে শনিবার রাতে ৩-১ গোলের বড় জয় পায় ইউর্গেন ক্লপের দল।

লিভারপুলের এই স্মরণীয় রাতে ব্যর্থ হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তারা ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে হেরে গেছে। সেটাও আবার নিজেদের মাঠে। পরাজয়ের ব্যবধানটা ২-১ গোলের। তিন ম্যাচে একটি করে জয়, ড্র ও হারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্ট এখন চার। সমান ৪ পয়েন্ট ক্রিস্টাল প্যালেসেরও।  এই রাতের অপর ম্যাচগুলোতে চেলসি ৩-২ গোলে নিউক্যাসলকে, লিস্টার সিটি ২-১ গোলে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে, ওয়েস্ট হ্যাম ৩-১ গোলে ওয়াট ফোর্ডকে এবং সাউদাম্পটন ২-০ গোলে ব্রাইটনকে পরাজিত করেছে।

টানা তিন জয়ে লিভারপুল উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে। এমন জয়ের পর এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত কোচ ক্লপ। বললেন, ‘মৌসুমের একেবারেই সূচনা লগ্নে আমদের দল দারুণ একটি প্রদর্শনী উপহার দিল। ম্যাচে তারা শক্তি, সামর্থ্য, আগ্রাসন ও আবেগ উজাড় করে দিয়েছে। আর্সেনালের মতো ভালো একটি দলের বিপক্ষে আপনার এরকম কিছুই করার দরকার ছিল। এটা আমাদের সামনে আরো বেশি আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’

বিশেষ করে সালাহর পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কোচ। বিরতির আগেই এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা।  এরপর ৪৯ মিনিটে নিজের প্রথম গোলটি সালাহ করেন পেনাল্টি থেকে। এর নয় মিনিট বাদে, ফ্যাবিনহোর পাস থেকে ফের গোল করেছেন সালাহ। দূরবর্তী কর্নার থেকে বাঁকানো শটে গোল করেন এই মিশরীয় তারকা। ক্লপ বলেন, ‘সালাহর তৃতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। আমাদের পরিচয় হচ্ছে গভীরতা। আজ আমরা সেটি প্রমাণ করেছি।’

শতভাগ সামর্থ্য দিয়েই লড়াই শুরু করেছিল দল দুটি। তবে ব্যবধান রচনা করে একক শীর্ষস্থান দখলে নেয় লিভারপুল। এই নিয়ে অ্যানফিল্ডে সর্বশেষ তিনটি সফরেই পরাজয় বরণ করল আর্সেনাল। যেখানে দুই দলের মধ্যে গোলের ব্যবধান ১২-২।  খেলা শেষে আর্সেনালের সেন্টার ব্যাক ডেভিড লুইজ বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই লিভারপুল দারুণ খেলছে। তবে আমরা যদি প্রথমে গোল করতে পারতাম তাহলে আমার মনে হয় ম্যাচের চেহারা ভিন্ন হয়ে যেত।’

শেষ বাঁশি বাজার মাত্র ছয় মিনিট আগে বদলি খেলোয়াড় লুকাস টোরেইরা আবামেয়াংয়ের কাট ব্যাক থেকে বল পেয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় একটি গোল পরিশোধ করেন। খেলা শেষের দিকে একটু ম্যাচে ফিরেছিল আর্সেনাল। কিন্তু, তাদের সেই প্রচেষ্টা ম্যাচের গোল ব্যবধান কমানো বাদে আর কোনো কাজেই আসেনি। গানার কোচ এমেরি অবশ্য দলের খুব বেশি সমালোচনায় গেলেন না। তিনি বলেন, ‘ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও আমরা যেভাবে ওদের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেছিলাম, সেটা দারুণ একটা ব্যাপার ছিল। বিশেষ করে, আমাদের প্রত্যাবর্তনটা ভালো ছিল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল। তবে, আমরা নিজেদের যোগ্যতা ও সাহসটা দেখাতে পেরেছি। সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা এই ব্যাপারই ধরে রাখতে চাই।’ তিন ম্যাচ খেলা আর্সেনালের এটা চলতি মৌসুমে প্রথম হার।