শীতকালীন সবজি উত্পাদন করে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না সাতক্ষীরার কৃষকরা। গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রকারভেদে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কম দামে বাজারে বিক্রি করছে কৃষকরা। ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, স্থানীয় ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতির দিকে। ফলে উত্পাদন খরচ তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন জেলার সবজি চাষিরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের সবজি চাষি আমজাদ হোসেন জানান, চলতি শীত মৌসুমে ২ বিঘা পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ করেছেন। এরমধ্যে দেড় বিঘাতে ফুলকপি এবং আধা বিঘা পরিমাণ বাঁধাকপি। এ পর্যন্ত দু‘দফা ফুলকপি উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করেছেন কৃষক আমজাদ হোসেন। কিন্তু বাজারে ফুলকপির যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে হতাশ হয়েছেন তিনি। চাষি আমজাদ হোসেন বলেন, গত মৌসুমে এই সময় যে ফুলকপি পাইকারী বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৫ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে। একই অবস্থা বাঁধাকপির দামেও।
একই উপজেলার আগড়দাড়ি গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন জানান, বারো মাসই নানা ধরনের সবজি উত্পাদন করেন তিনি। চলতি শীত মৌসুমে ৩ বিঘা পরিমাণ জমিতে ওলকপি, বাঁধাকপি এবং পালন শাক চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে সবজির ভালো দাম না থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এই কৃষক। ফলে উত্পাদন খরচ বাঁচবে কি-না তাতে সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা কাঁচামাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম কমে গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সরবরাহের পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবজি সাতক্ষীরায় আসছে। ফলে সবধরনের শীতকালীন সবজির দাম কমতির দিকে।
সাতক্ষীরা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ বেড়েছে। তাছাড়া এ জেলায় বারো মাসই নানা ধরনের সবজি উত্পাদন হয়ে থাকে।