কমলগঞ্জে আউশ কাটার পর আমন রোপণের ব্যস্ততা

গত জুলাই মাসে ভারী বর্ষণ, বন্যায় কয়েক দফা ক্ষয়ক্ষতির পরও জেলার কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে আউশ ফসল উত্তোলনের আনন্দ অন্যদিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠে নতুন করে হাল ধরেছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। চাষাবাদের উপযুক্ত সময়ে কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন রোপণে কৃষকদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। উপজেলায় ১৭ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে আউশ ১২ হাজার ২৬০ হেক্টর আবাদ হয়। তবে জুলাই মাসে কয়েক দফা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। আউশ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই জমি চাষাবাদ ও উপযোগী করে দ্রুত আমনের চারা রোপণ শুরু করেছেন। বীজ, সার, শ্রমিকের খরচ দিয়ে বিক্রির সময়ে উত্পাদন খরচও পাওয়া যায় না বলে কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভারী বর্ষণের কারণে খেত কৃষি বিনষ্ট হলেও অন্যান্য এলাকায় তেমন ক্ষতি সাধিত হয়নি।

গত বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক বীজতলা, আউশ ও সবজি খেতের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় কমলগঞ্জ পৌরসভা ছাড়াও আদমপুর, ইসলামপুর, সদর ইউনিয়ন, আলীনগর, রহিমপুর, শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হেক্টর বীজতলা, ৩০০ হেক্টরের আউশ ও ৫০ হেক্টরের সবজি খেত বিনষ্ট হয়। আমন ও টম্যাটোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা বিকল্প ধানের চারা না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।

কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকার কৃষক গোলাম নবী, প্রভাত বৈদ্য, কাসেম মিয়া, আলতাফ মিয়া বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে শুধু রামপাশা গ্রামে প্রায় ৬০০ কিয়ার আউশ খেত বিনষ্ট হয়। পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের বন্যা প্লাবিত অন্যান্য গ্রামাঞ্চলেও বীজতলা, আউশ খেত ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক ফয়জুর রহমান, শেরওয়ান আলী, শওকত আলী, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের মোজাহিদ আলী বলেন, বন্যায় আমনের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া চারা দিয়ে কোনোমতে আমনের আবাদ হয়েছে।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বন্যায় শুধু আদমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হেক্টরের মতো আউশ খেত, ১৫ হেক্টরের মতো আমনের বীজতলা বিনষ্ট হওয়ার পরও কৃষকরা পুনরায় আমন চাষাবাদ করছেন। কৃষকরা আউশের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠে আউশ ধান কাটার পরপরই আমন ধানের চারা রোপণ করছেন।