চাঁদবিল-কেদারগঞ্জ বাইপাস সড়কের মাঝখানে গাছ

মেহেরপুরের চাঁদবিল-কেদারগঞ্জ বাইপাস সড়কের মাঝখানে পাঁচটি কড়ইগাছসহ সদর উপজেলার মধ্যে ১১৪টি গাছ রেখে রাস্তা শেষ করা হয়েছে। চাঁদবিল মরাগাংনীর মোড়ে সড়কের মাঝখানে ৫টি গাছ রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায়। যেখানে প্রতিনিয়িত ছোটো ছোটো দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছগুলো কাটার অনুমতি চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিউত্তর না আসায় গাছগুলো কাটা সম্ভব হয়নি।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ঐ মোড়ে বা অন্যকোনো স্থানে সতর্কীকরণ কোনো লেখা বা চিহ্ন সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর সেখানে স্থাপন করেনি। ফলে নতুন চালকরা সেখানে প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে পড়ছেন।

রিয়াজ নামের এক ট্রাক চালক জানান, এই সড়কে যেদিন প্রথম গাড়ি নিয়ে আসি সেদিনই দুর্ঘটনায় পড়তে যাচ্ছিলাম। মোড়ের উপর একপাশে সড়কের মাঝখানে গাছ অপর পাশে পুকুর। ফলে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি।

স্থানীয় কোলা গ্রামের বকতিয়ার হোসেন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, সড়কের ওপর গাছ থাকায় এই সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। মরাগাংনীর মোড়, যেখানে ৫টি গাছ রয়েছে তার পাশেই রয়েছে একটি ব্যক্তিমালিকানা বড় আকারের পুকুর। ফলে ওই স্থানে চলাচল করতে হয় ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। দ্রুত গাছগুলো অপসারণ না করা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মেহেরপুর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, সড়ক নির্মাণ শুরুর সময় থেকে আমরা ওই গাছগুলোর মালিক খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের কাছে পৃথকভাবে চিঠি পাঠালে তারাও কেউ দাবি করেনি। পরবর্তীতে আমরা বিভাগীয় কমিশনার কাছে গাছের বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে পারি গাছগুলো ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত।

মেহেরপুর সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ, চাঁদবিল-কেদারগঞ্জ সড়কের ঐ গাছগুলোর মালিকানা তাদেরও নেই। তবে জেলা প্রশাসন থেকে গাছ কাটার বিষয়ে বললে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, বাইপাস সড়কের সদর উপজেলার মধ্যে ১১৪টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সড়কের মধ্যে রয়েছে ২৫টি, যেগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলো কেটে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিউত্তর আসেনি। তবে গাছগুলো থাকায় সড়কে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহনসহ পথচারীরা চলাচল করছে বলে তিনি স্বীকার করেন।