চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় কোরবানির ঈদের সময় সংগৃহীত চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। পুঁজি আটকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর বাদামতলস্থ নগরপাড়া, হাশিমপুর বড়ো পাড়ার কয়েক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত্ এ মৌসুমী ব্যবসা করে আসছে। বর্তমানে চামড়া বিক্রি করতে না পাড়ায় তাদের চোখে-মুখে অন্ধকার নেমে এসেছে পুঁজি হারার আশঙ্কায়। কোরবানি ঈদের সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এসব মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনও কোনো চামড়া বিক্রি করতে পারেনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকার ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে আতঙ্ক। উপজেলা কাঞ্চননগর বাদামতল নগরপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ছাবের এবং সেলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ২০/২৫ বছর ধরে চামড়া ব্যবসা করে আসছি। চট্টগ্রাম শহরে আল মদিনা ট্যানারিতে চামড়া সরবরাহ দিয়ে শান্তিতে সংসার জীবন চালিয়েছি। বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। এছাড়াও ঢাকা ট্যানারিতেও আমরা চামড়া সরবরাহ করেছি।
ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আমরা এখনও ১৫/২০ লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছি। মৌসুমেও আমাদের বকেয়া টাকা পাইনি। যার কারণে অন্যান্য বছর পাঁচ/ছয় হাজার পিচ চামড়া সংগ্রহ করলেও এবার অর্থ সংকটের কারণে মাত্র দেড় হাজার পিচ চামড়া ক্রয় করেছি। তাও বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখনও কোনো আড়তদার কিংবা ট্যানারির লোকজনের দেখা নেই। মৌসুমী ব্যবসায়ী ছাবের এবং সেলিম উদ্দিন আরো জানান, প্রকারভেদে তারা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে চামড়া খরিদ করেন। চামড়া পরিষ্কার ও লবণজাতকরণে প্রায় প্রতি পিচ চামড়ায় খরচ হয়েছে ৫০০/৬০০ টাকা। সময়মত এসব চামড়া বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে এসব ব্যবসায়ীদের।