কুসুম্বা মসজিদে মানত দেয়া হলো না মা-মেয়ের

মান্দায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদে মানত দেয়া হলো না মা ও মেয়ের। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন বাজারে তাদের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার বজরুক আতিথা গ্রামের এবাদত হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বিবি (৫৫) ও তার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে শাহনাজ পারভীন (২৫)।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতরা হলেন— নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের  দোনইল গ্রামের মৃত খয়বর রহমান সরকারের ছেলে জাহেদুল ইসলাম, মান্দা উপজেলার কাঞ্চন গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মমতাজ হোসেন ও তার স্ত্রী লতিফা বিবি। জাহেদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে নওগাঁর বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসযোগে মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদে মানত দিতে রওনা দেন। পথে সতীহাট বাসস্ট্যান্ডে নেমে একটি অটোরিকশায় তারা কাঞ্চন বাজারে আসেন। অটোরিকশা থেকে  নেমে বাজারের পাশে মমতাজ  হোসেনের বাড়ি যান তারা। তবে, মমতাজ হোসেনের বাড়ি তারা কেন গিয়েছিলেন এ বিষয়ে  কোনো কথা বলতে রাজি হননি আটক জাহেদুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়ি  থেকে  বের হবার পর-পরই মা ফরিদা বিবি ও মেয়ে শাহনাজ পারভীন বমি করতে শুরু করেন। এর কিছু পরেই তারা অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিত্সাসেবা দেয়ার আগেই মা ফরিদা বিবি মারা যান। পরে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে  নেয়ার পথে মারা যান  মেয়ে শাহনাজ।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে জাহেদুল ইসলাম, মমতাজ হোসেন ও লতিফা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ  মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনার পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধারসহ তাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান ওসি।