পঁচাত্তর পরবর্তী বিভিন্ন সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেছে :আমু

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এ হত্যাকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্যু, পাল্টা ক্যু এর নামে বিভিন্ন পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও নেতৃত্ব দানকারীদের ওপর আঘাত হানা হয়েছিল। গতকাল রবিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে স্মরণসভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী ২১ বছর ধরে বিভিন্ন সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করে গেছে।

আমু বলেন, বঙ্গুবন্ধু হত্যার পর সংবিধানের চার মূলনীতিকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন করা হলো। এই দেশকে আবারও নব্য পাকিস্তান বা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়েই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার না করার জন্য ইনডেমনিটি আইন পাশ করে জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশকে পাকিস্তানি কায়দায় পরিচালনা করা। ১৫ ও ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ড এক সূত্রে গাঁথা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের জন্য তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কেন না, খালেদা জিয়া তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠির সভাপতি সালাউদ্দিন বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুসসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ অনুষ্ঠানে শোক সঙ্গীত পরিবেশন করে।