নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনে আওয়ামী লীগের দু’জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়ছে। একক প্রার্থী মনোনয়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাফনের কাপড় পরে লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকায় বিক্ষোভ করেছে শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থকরা। বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন রিপন, তৌহিদুল ইসলাম বাঘা প্রমুখ। অপরদিকে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লে. কর্ণেল অব. রমজান আলী সরকার। আর মনোনয়ন-বঞ্চিত বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ সমর্থকরা যার যার মত নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। ফলে ১৪ দলের হাত-ছাড়া হতে চলেছে এ আসনটি। সুযোগে আসনটিতে জাসদ (ইনু) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি. মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলছেন তার সমর্থকরা।
জানা গেছে, আসন্ন ১১ দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ সংসদীয় আসন-৫৮-এ ১৪ দলীয় জোট থেকে দলীয়ভাবে মোট পাঁচজনকে চারটি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ১৪ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শহীদুল ইসলাম বকুল ও পরবর্তীতে লে. কর্ণেল রমজান আলী সরকারকে মনোনয়ন দেয়া হয়। দলীয় মনোনয়ন প্রদানের পর থেকে এলাকায় রমজান আলী সরকারের দল ও শহীদুল ইসলাম বকুলের দল নানাভাবে পাল্টা-পাল্টি প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে শহীদুল ইসলাম বকুলের চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়কে কেন্দ্র করে তার সমর্থকরা সাদা কাপড় পরিধান করে বাগাতিপাড়া এলাকা থেকে আন্দোলন শুরু করে। এক্ষেত্রে এলাকায় যান চলাচলে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে এবং উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-দক্ষিণবঙ্গগামী সকল ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এমতাবস্থায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় কোন্দলের কারণে এলাকার জনসাধারণের মাঝে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। সুযোগে আসনটিতে জাসদ (ইনু) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি. মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলছেন তার সমর্থকরা।
উপজেলা জাসদের আহবায়ক আব্দুল হালিম বলেন, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এই দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী ভবিষ্যতে একত্রে কাজ করতে পারবে না এটা নিশ্চিত। এই এলাকায় ১৪ দলীয় জোট জাসদের একক প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থী। তিনি এ যাবত্ পর্যন্ত এলাকার উন্নয়ন ছাড়া কোনোরূপ দলীয় কোন্দলে জড়াননি।