প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার লোক বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট দিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রী যাতায়াত করেন এ ঘাট দিয়ে। উপচেপড়া ভিড়ে মালামাল বহনের ক্ষেত্রে কুলিদের হাতে হয়রানির শিকার হন যাত্রীরা। যাত্রীদের হাতের বহনযোগ্য পণ্য বহন করতে কুলিদের দ্বারা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যাত্রীরা হাতে বহনযোগ্য পণ্য নিজেরাই বহন করতে চাইলে কুলিরা নিতে বাধা দেন এবং অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করেন। এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনা অনুযায়ী হাতে বহনযোগ্য পণ্য যাত্রীরা কোনো প্রকার টাকা ছাড়াই নিতে পারবেন। যাত্রীসাধারণের দাবি, যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে কুলিদের দৌরাত্ম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অভিযোগ আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও নৌ-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে তারা এসব কাজের বৈধতা নেয়।
বিআইডব্লিউটিএর সূত্র অনুযায়ী পণ্য বহনের পারিশ্রমিক লাগেজ/ব্যাগ অনধিক ১০ কেজি ১০ টাকা, অনধিক ৬০ কেজি ৬০ টাকা, আলমারি (স্টিল/কাঠের) ১০০ কেজি ১০০ টাকা, টেলিভিশন ২০ টাকা, ফ্রিজ ৫০ টাকা, মোটরসাইকেল ২৫ টাকা, বাইসাইকেল ২০ টাকা, ফ্যান ২০ টাকা, হার্ডওয়ার মালামাল ৫০ কেজি ৪০ টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল নিয়ে ঘাটে প্রবেশ করার সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০০ টাকা দাবি করে কুলিরা। আরেকজন ব্যক্তি বাচ্চার জন্য খেলনা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হয়। চাঁদপুরগামী এক যাত্রী কয়েক বস্তা পণ্য নিতে চাইলে তার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করে তারা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি ও ভয় দেখানো হয়।
কর্মরত এক কুলি জানায়, পণ্য বহন করে তারা যে টাকা আয় করে তার ৫০% নিয়ে যায় হাবিব নামে এক ব্যক্তি। চেকার যখন ঘাটে চেক করতে আসে তাদের ৫০০ দিয়ে দেয় ঘাটে নিযুক্ত দালালরা। বিভিন্ন জনকে টাকায় ভাগ দিতে হয় তাই কুলিরা যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করে। বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক পণ্য যারা বহন করবে তাদের পোশাক হলুদ রঙের আর যারা যাত্রীর মালামাল বহন করবে তাদের পোশাক আকাশি রঙের হবে। নিয়ম থাকলেও খুব অপ্রতুলসংখ্যক কুলিকে নির্দিষ্ট পোশাকে দেখা যায়। নির্ধারিত পোশাকবিহীন অনেককেই টাকা আদায় করতে দেখা যায়। গেট নং-৭ এ বিল্লাল নামে একজন ব্যক্তিকে ৪ জন শিশুর মাধ্যমে মালামাল বহনের কাজ করাতে দেখা যায়। ঢাকা-কাঠপট্টিগামী এক যাত্রী বলেন, যাত্রীরা নিজের মান-সম্মানের কারণে কুলিদের কিছু বলে না। তারা যে টাকা দাবি করে তা না দিলে সংঘবদ্ধ হয়ে যাত্রীদের হেনস্তা করে।
ঢাকা নৌবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য লোক এ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে কেউ যদি হেনস্তার শিকার হন আমাদের কাছে তা জানাচ্ছেন না। ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় ফোন নম্বর ও অভিযোগ বাক্স দেওয়া আছে। তবে যাত্রীদের মাঝে সচেতনতার অভাবে তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাচ্ছি না। নৌ-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, যথেষ্ট পরিমাণে পুলিশ এবং আনসার বাহিনী ঘাটে নিযুক্ত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।