পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাহ আলম (৪৮) নামের এক ইউপি সদস্যকে হত্যার দায়ে সাত ডাকাতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাবাসের আদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো.আব্দুল মান্নান এ রায় দেন। নিহত শাহ আলম ওই উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলঝুড়ি গ্রামের মৃত সৈজউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ও ঘটনার সময় ইউপি সদস্য ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই রাতে ফুলঝুড়ি গ্রামের এক বাড়িতে ডাকাত পড়ার ডাক-চিৎকার শুনে শাহ আলম ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ডাকাতদের মুখোমুখি হন। এ সময় ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। তখন অন্যান্য লোকজন শাহ আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ডাকাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাপক তদন্ত শেষে আট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আরও পড়ুন: কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, হাসপাতালে মৃত্যু
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আসামি মঠবাড়িয়া উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের আলম মোল্লা (৩৪), বাদুরা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন (৩৪), পাঠাকাটা গ্রামের ইদ্রিস হাওলাদার (৩৯) ও ইলিয়াস (৩৪), বকসির ঘটিচোরা গ্রামের দোলোয়ার হোসেন (২৯), ধানীসাফা গ্রামের আব্দুর রহিম (৩৪) ও সাফা গ্রামের মো. বাচ্চু তালুকদারকে (৩৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। ইদ্রিস হাওলাদার ও বাচ্চু তালুকদার পলাতক রয়েছেন। মামলা চলাকালে মোস্তফা নামের অপর এক আসামি জামিনে থেকে মঠবাড়িয়ায় আরেকটি ডাকাতির ঘটনায় গণপিটুনিতে মারা যান।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি খান মো. আলাউদ্দিন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
ইত্তেফাক/কেকে