নতুন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট দেশে এসেই বলেছেন, তারা জাতীয় দলের পাইপলাইন নিয়ে কাজ করতে চান। চান বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ দল গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে। সেই পরিকল্পনায় আছে পাইপলাইন থেকে তরুণ খেলোয়াড় বের করে আনা, পেস বোলিংয়ে বাড়তি জোর দেওয়া; এসব।
গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও এখনকার নির্বাচক হাবিবুল বাশার বললেন, তারাও ভবিষ্যত্ নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বোলিং কোচ পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের কী ধরনের বিকল্প আছে, তা খতিয়ে দেখছেন।
পেস বোলিংয়ের গুরুত্ব বলতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলছিলেন, ‘পেস নিয়ে তো আলাদা চিন্তা করতে হবেই। আমরা যদি ঘরের বাইরে ম্যাচ জিততে চাই, তাহলে আমাদের পেস বোলিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি যে ঘরের মাঠে যখন খেলা হয় তখন স্পিনাররাই মূল কাজটা করে থাকেন। কিন্তু যখন দেশের বাইরে যাই তখন পেসারদের খুব দরকার হয়।’
এরই মধ্যে বাংলাদেশের হাতে থাকা সব পেসারকে দেখার প্রক্রিয়া নতুন বোলিং কোচ শুরু করে দিয়েছেন বলেই জানালেন বাশার, ‘সে অনেক উচ্ছ্বসিত, সে সবাইকে দেখতে চেয়েছে, আমাদের এইচপি দলের যারা ফাস্ট বোলার আছেন তাদের নিয়েও ওকে দেখাব। আমাদের যেহেতু এইচপিতে এক জন কাজ করছেন। সঙ্গে কাদের নিয়ে আমরা কাজ করছি, কারা বেশি প্রমিসিং, সেটা যেন ওর মাথাতেও থাকে। এই ট্রেনিংগুলোতে ফাস্ট বোলার নিয়ে আসব, তখন যদি তাদের খেলা না থাকে তখন ওদের নিয়ে আসব কাজ করার জন্য। যেন ভবিষ্যতের জন্য আমরা কাজ করতে পারি ভালোভাবে।’
পেস বোলিংয়ের মতো না হলেও বাধ্য হলেও বাংলাদেশকে এখনই ব্যাটিং, বিশেষ করে ওপেনিংয়ে বিকল্প নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তামিম ইকবাল না থাকায় কাদের দিয়ে ইনিংস শুরু করানো হবে, সেটা বলতে গিয়ে বাশার বলছিলেন, ‘দেখুন আমাদের নিয়মিত যে ওপেনার তামিম ইকবাল তিনি এ সিরিজে খেলছেন না। তামিম তো আমাদের হয়ে অনেকদিন ধরে খেলছেন, আমাদের সব থেকে অভিজ্ঞ এবং প্রুভেন খেলোয়াড়। সঙ্গে আমরা সাদমান ইসলামকে রেখেছিলাম সে কিন্তু ভালো করেছে। তবে তার সঙ্গী কে হচ্ছেন এ সিরিজে সেটা আমরা এখনো চিন্তা করিনি। আমাদের আলোচনা চলছে যে, পুরোনো কাউকে দেখব, না কি ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা নতুন উদ্বোধনী জুটি দেখব।’
শুধু ওপেনিং নয়, সব পজিশনেই তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজছেন নির্বাচকরা। এর মধ্যে পাইপলাইনে থাকা দুই জন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করেই বাশার বললেন, ‘কিছু খেলোয়াড়ের ওপর তো সব সময় চোখ থাকেই। শান্তকে কিন্তু আমাদের ইমিডিয়েট প্রসপেক্ট হিসেবে আমরা চিন্তা করেছিলাম। সে কিন্তু খেলেছেও। কিন্তু আশানুরূপ করতে পারেনি। তবে সে এই সিরিজটাতে ভালো খেলেছে এবং ভারতে বেশ ভালো খেলে আসছে। ঐভাবে চিন্তা করলে ওর ব্যাপারে আমি বেশ সন্তুষ্ট, আফিফও ভালো খেলেছে। ফলাফল আমাদের পক্ষে না গেলেও ভালো খেলেছি। ওদের (শ্রীলঙ্কা) দলটা বেশ শক্তিশালী। কিছু খেলোয়াড় আমাদের সন্তুষ্ট করেছে আবার সব সময় কিছু খেলোয়াড়ের কাছ থেকে যে আশা থাকে সেটা আমরা পাই না। এ সিরিজগুলো আমাদের সুযোগ করে দেয় আমাদের ভবিষ্যত্ খেলোয়াড়রা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে সেটা দেখার জন্য।’