ফুটবল দুনিয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে লিগ শুরু হয়ে গেছে। খেলা নিয়ে মেতে উঠেছে ফুটবল দর্শক। বাংলাদেশে ইউরোপীয়ান ফুটবলের যেসব দর্শক রয়েছেন তারাও রাত জেগে খেলা দেখতে শুরু করছেন। অন্যরা যখন মাঠের খেলা নিয়ে ব্যস্ত তখন বাফুফের লিগ কমিটি ঘোষণা করল অক্টোবরে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের খেলোয়াড় দলবদল। গতকাল বিকালে লিগ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ১ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০ নভেম্বর খেলোয়াড় দলবদল শেষ হবে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ মাঠে গড়াবে জানুযারীতে। তার আগে ডিসেম্বরে ফেডারেশন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও ঘোষণা করেছে লিগ কমিটি। স্বাধীনতা কাপ ফুটবল হবে প্রিমিয়ার লিগের খেলার ফাঁকে ফাঁকে। এটিকে নতুনত্ব বলছে লিগ কমিটি।
ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়েই লিগ কিমিট গঠন করা হয়। ক্লাব প্রতিনিধিদের নিয়ে গড়া লিগ কমিটিতে ক্লাবগুলো একমতে এসেছে যে, ১ জানুয়ারী লিগ শুরু হবে। যদি সেটি নাও হয় তাহলে জুনায়ারীর প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে।
লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী সভার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন। যেখানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত লিগ কমিটির কর্মকর্তা আবদুর রহিম, জাকির হোসেন চৌধুরী, শেখ জামাল হতে আশরাফ উদ্দিন আহমদে চুন্নু, শেখ রাসেল সালেহ জামান সেলিম, সাইফ স্পোর্টিং নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ব্রাদার্স ইউনিয়নের আমের খান সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
১৪ দল নিয়ে লিগ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। কিভাবে হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ এবার একটি দলকে রেলিগেশন করানোর আবেদন রয়েছে। সেটি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। নোফেল ক্লাব এবং বিজেএমসি প্রিমিয়ার লিগ হতে পয়েন্ট টেবিলের সর্বনিম্ন দল।
আগামী লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের রেজিষ্ট্রেশন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গত মৌসুমে ছিল ৪টি। এবার সেটি ৫ করা হয়েছে। তবে খেলবে চারজনই। তিন যেকোনো দেশের হতে পারে। একজন খেলবেন এশিয়ান কোটায়।
বিদেশি সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব ক্লাবগুলোর। তাদের যুক্তি হচ্ছে বিদেশি খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে তাকে বসে থাকতে হয়। বিকল্প খেলোয়াড় থাকলে তাকে মাঠে খেলানোর সুযোগ থাকে। জানা যায় এই বিষয়টি নিয়ে লিগ কমিটির একাধিক কর্মকর্তা তিনটি ক্লাবের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা হয়েছিল।
লিগ কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ৬ মাসের মধ্যে লিগ শেষ করতে হবে। তাই কিছু কিছু বিষয় নতুন করে ভাবা হচ্ছে। লিগের গত আসরে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, গোপালগঞ্জ, সিলেট, নোয়াখালী, এই ৫টি ভেন্যুতে খেলা হয়েছিল। ঢাকার বাইরে যাওয়া আসা নিয়ে ক্লাবগুলোর অনীহা। ক্লাবগুলোকে মানিয়ে নিয়ে তাদের পছন্দ অপছন্দকে প্রাধান্য দিতে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সম্মতি দিয়েছেন তাই এবার ভেন্যু নিয়ে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়াম, কমলাপুর, কুমিল্লা এবং নরসিংদী নতুন ভেন্যু হতে পারে। ভেন্যু বাড়তেও পারে তবে কমবে না বলে জানিয়েছেন সালাম। চট্টগ্রাম আবাহনীতো নিজের শহর বাদ দিয়ে ঢাকায় তাঁবু গেড়েছে। ঢাকায় অনুশীলন মাঠ পাওয়া যায় না। তারপরও চট্টগ্রাম আবাহনী নিজেদের হোম ভেন্যুতে যায়নি। এখন শোনা যাচ্ছে আগামী লিগেও চট্টগ্রাম আবাহনী ঢাকায় অবস্থান করবে। এমএ আজীজ স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর তকমা লাগিয়ে রাখতে চায়।