ফুল, ফল, কাঠ ও ঔষধি জাতের গাছের চারায় গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জে নার্সারি পল্লি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বাজার থেকে পতনঊষার সড়ক পর্যন্ত রাস্তার ধারে ও বাড়িঘরে শোভা পাচ্ছে বাহারি গাছের নার্সারি। সবুজ প্রকৃতি গড়ার কারিগর এসব নার্সারি মালিকরা এই ব্যবসায় নিরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। প্রায় অর্ধশতাধিক নার্সারিতে কয়েকশ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ছাড়াও প্রকৃতিকে অক্সিজেনের যোগান দিচ্ছে।
উপজেলার হাট বাজার, রাস্তার ধারে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে শোভা পাচ্ছে সবুজ গাছের চারার নার্সারি পল্লি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ছোটো বড়ো নার্সারি পল্লির চারা বিক্রি করে অনেকেই সফল হয়েছেন। নার্সারি মালিকদের কেউ কেউ রয়েছেন প্রশিক্ষিত। ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি জাতের চারা উত্পাদনের বাহারি রঙের চারায় ভরপুর রয়েছে নার্সারিগুলো।
সরেজমিনে নার্সারি পল্লি ঘুরে দেখা যায়, জমি ইজারা নিয়ে কিংবা নিজস্ব জমিতে নার্সারি গড়ে উঠেছে। বিগত কয়েক বছর যাবত্ বিদেশি প্রজাতির চারা দিয়ে নার্সারি পল্লি সরগরম থাকলেও এখন দেশিয় প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাওয়ার সময় লোকজন এসব নার্সারি থেকে প্রচুর পরিমাণে চারা কিনে নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে রোপণ করছেন। বর্তমানে আগর গাছের চারার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে এসব নার্সারি মালিকদেরও কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে না বলে নার্সারি মালিকরা জানান। উপজেলার ছোটো বড়ো প্রায় শতাধিক নার্সারি গড়ে উঠলেও শমশেরনগর ও পতনউষার ইউনিয়নেই অধিক নার্সারি রয়েছে। আর এসব নার্সারিতে চা বাগানসহ স্থানীয় নারী শ্রমিকরা খোঁজে নিয়েছেন আয়ের পথ। এক একটি নার্সারিতে আট, দশজন করে নারী শ্রমিকরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাইরে থেকে আসা যেসব বহিরাগত প্রজাতি স্থানীয় বাস্তুসংস্থান ও প্রতিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব তৈরি করছে, সেসব প্রজাতিকে বহিরাগত-আগ্রাসি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই প্রজাতিগুলো স্থানীয় প্রাণবৈচিত্র্যের অপরাপর সদস্যের প্রজাতিকে জোর করে সরিয়ে দেয়। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ দিয়ে নার্সারি এবং কৃত্রিম বনায়নে উত্সাহ যোগানো হচ্ছে।
শমশেরনগর বিমান বাহিনী এলাকায় গড়ে উঠা ঈগল নার্সারির মালিক আশিক মিয়া, আজাদ মিয়া বলেন, বিগত বারো, তেরো বছর ধরে তারা নার্সারি ব্যবসার সাথে জড়িত। বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে তিনি প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে চারা উত্পাদনে ইউক্যালিপটাস চারা ব্যতীত অন্য কোনো চারার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাকে ধারণা দেওয়া হয়নি। নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি বারিক আলীসহ অন্যরা বলেন, বাণিজ্যিকভিত্তিতে তারা নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তাদের নার্সারিগুলোতে দেশি-বিদেশি প্রজাতির বনজ গাছের চারা ছাড়াও জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং নিম ও আগরসহ কিছু কিছু ঔষধি এবং নানা জাতের ফুলের চারাও রয়েছে।
কমলগঞ্জ রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, আসলে শমসেরনগর-পতনঊষার এলাকায় বেশ কয়েকটি নার্সারি রয়েছে। এগুলো প্রাকৃতিক গাছের অভাব পূরণে বড়ো ধরনের অবদান রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে নার্সারি ব্যবসা করে এরা প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।