আশাশুনিতে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া ও হরিষখালি পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করছেন গ্রামবাসী। পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে গ্রামবাসীকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শনিবার সকাল থেকে এই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর ৭/২ নম্বর পোল্ডারে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া ও হরিষখালি পয়েন্টে সহাস্রাধিক মিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদ-নদীতে জোয়ার বেড়ে যাওয়ায় এই দুটি পয়েন্টে বাঁধের ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্ল­াবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়ন তিন দিক থেকে খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদ বেষ্টিত হওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর এই ইউনিয়নের কোনো না কোনো জায়গার বাঁধ ভাঙা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২ বার এ ইউনিয়নের কোনো না কোনো জায়গায় বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ গত আট মাস আগে চাকলা গ্রামের বাঁধ ভেঙে কয়েক শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমি বাদ দিয়ে একটি বিকল্প রিংবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি আটকানো হয়েছে। ফলে ঐ ৫০০ বিঘা জমিতে বসবাসকারী ২ শতাধিক পরিবারের বসতভিটায় এখন জোয়ারভাটা খেলছে। এই ইউনিয়নের বেশির ভাগ বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হয়ে আছে। ফলে বর্ষা এলেই আমাদের উদ্বেগ উত্কণ্ঠায় দিন পার করতে হয়।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ উজ্জামান খান জানান, তার বিভাগের আশাশুনি উপজেলার ৮০ কিলোমিটার বাঁধ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কোরবানি ঈদের আগে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ভাঙন পয়েন্ট পরিদর্শন করেছিলাম। একই সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮টি পয়েন্ট জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে ১৩টি পয়েন্ট মেরামতের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। টাকা পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতে কাজ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পাউবো বিভাগ-২ এর ৭/১, ৭/২ ও ১৩-১৪/১ এবং ১৩-১৪/২ নম্বর পোল্ডারের ভাঙনকবলিত এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেটি পাশ হলে পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক প্রয়োজন সাপেক্ষে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।