ঘোড়াশালে লোকালয়ে বানরের বিচরণ!

ফলের দোকানের ফল ছিনিয়ে নেওয়া, ফল ফেলে দিয়ে নষ্ট করা, রুটির দোকানের রুটি ছিনিয়ে নেওয়া ও বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দোকানের মালামাল ফেলে নষ্ট করা এবং বাধা দিতে গেলে হামলা করা—একেই বলে বানরের বাঁদরামি। দুই বানরের অত্যাচারে প্রায় ছয় মাস ধরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজারের ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জুটমিলের আবাসিক বাসিন্দারা। সুযোগ পেলেই ফলের দোকানের ফল, বিভিন্ন হোটেলের সব খাবার সাবাড় করাসহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট করছে। বাধা পেলে দাঁত খিঁচিয়ে তেড়ে আসছে বা ঝাঁপিয়ে পড়ছে গায়ের ওপর। চালাচ্ছে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা। বানরের হামলায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও মিলের কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।  ঘোড়াশাল বাজার এলাকা থেকে বাংলাদেশ জুটমিল পর্যন্ত প্রায় কয়েকশ দোকান ও বসতঘর রয়েছে। প্রায় সব দোকান ও বসতঘরে হানা দিচ্ছে এই বানররা। সাধারণত এই ধরনের বানর জনবহুল এলাকায় দেখা যায় না। কিন্তু জনবহুল ঘোড়াশাল বাজার এলাকায় এই বানর দুটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রবিবার বিকেলে সরেজমিনে ঘোড়াশাল বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা মিলে বানর দুটির। একটি দোকানের টিনের চালে কিছুক্ষণ বসে থেকে মুহূর্তেই দোকানে থাকা রুটির ব্যাগে থাবা মেরে রুটি নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে কিছু রুটি মাটিতেও ফেলে নষ্ট করে দেয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ঘোড়াশালস্থ বাংলাদেশ জুটমিলের পাট মাদারীপুর জেলার চরমুগুরিয়া এলাকা থেকে ট্রাকে করে আনা হতো। ঐ সময়ই একটি ট্রাকে করে বানর দুটি বাংলাদেশ জুটমিলে আসে। এরপর থেকে বানর দুটি ঐ জুটমিলেই বসবাস করে।

বাংলাদেশ জুটমিলের নিরাপত্তা কর্মী দুলাল মিয়া জানান, প্রায় পাঁচ/ছয় বছর ধরে এই বানর দুটি বাংলাদেশ জুটমিলেই বসবাস করছে। আগে এত অত্যাচার না করলেও ছয় মাস ধরে খুব অত্যাচার করছে বানর দুটি।

ঘোড়াশাল বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মুন্না মিয়া জানান, কিছুদিন আগে বানর দুটি আমার দোকানের সব ফল ফেলে নষ্ট করে দেয়। এই বানর দুটির অত্যাচারে এ বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।

বাংলাদেশ জুটমিলের মিতালী কোয়ার্টারের বাসিন্দা সাইদুর মিয়া জানান, এ বানররা কখনো জিনিস চুরি করে পালাচ্ছে, কখনো বা মুখ খিঁচিয়ে মারতে আসছে। বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কলোনিবাসী। সন্ধ্যার পর শিশু ও মেয়েরা ঘর থেকে বের হয় না বানরের ভয়ে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জামালউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।