শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ ইরানের হাতে কোনো পরমাণু অস্ত্র দেখতে চায় না। ঐ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জোটের সবকটি দেশের স্বার্থ রয়েছে। রবিবার এমন মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা।
ম্যাত্রেঁদ্ধা বলেন, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা প্রত্যেকেই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনা হলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের বার্তা তেহরানকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা কমাতে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন। এএফপি ও পার্স টুডে
এদিকে রবিবার আকস্মিকভাবে ফ্রান্সের বিয়ারিতজ শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে হাজির হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ। ইরান শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭-এর সদস্য না হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবাক করে দিয়ে সেখানে যান তিনি। শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ম্যাত্রেঁদ্ধার সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে নির্ধারিত সফর স্থগিত রেখে ইরানি সরকারি বিশেষ বিমানে বিয়ারিতজে পৌঁছান জারিফ। সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। শিল্পোন্নত সাত দেশের শীর্ষ সম্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েক ঘণ্টার উপস্থিতিকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ম্যাত্রেঁদ্ধার সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের উপায় নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর আগে ইরানি জারিফও এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জি-৭ সম্মেলন শুরুর আগের দিন তিনি প্যারিস সফর করে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।