পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি ইব্রাহীম সাসপেন্ড

রাজধানীর নবাবপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে বরাদ্দ হওয়া বাড়ি দখলে প্রভাবশালী চক্রকে সহায়তার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খান এর আগে লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময় বংশাল থানা এলাকায় একটি মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ভূমিদস্যুদের দখল করিয়ে দিতে সহায়তার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুরান ঢাকার ২২১ নবাবপুর রোডে আজহারুল হক খান ও তার ভাই ফজলুল হক খানের বাড়ি দখলে স্থানীয় প্রভাবশালী জাবেদউদ্দিন শেখ ও তার ভাই আবেদউদ্দিন শেখকে সহায়তা করেছেন ইব্রাহীম। এছাড়া বংশালে একটি মার্কেট দখলে প্রভাবশালী চক্রকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নবাবপুরে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত তিনতলা এ বাড়ির লিজসূত্রে মালিক ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুল হক খানের মা মাসুদা খান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে এই জমিটি ইজারা দেন। বাড়িতে অবস্থিত মাসুদা করপোরেশনের ম্যানেজার মুক্তিযোদ্ধা কে এম শহিদুল্লাহ। পরে তার উত্তরসুরি হিসাবে ছেলে আজহারুল হক খানকে ঐ জমি হস্তান্তর করেন। পুলিশের তত্কালীন লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহিমের (বিদায়ী ডিসি ওয়ারী জোন) যোগসাজশে প্রভাবশালী চক্রের সদস্য শেখ জাবেদ উদ্দিনসহ ১০-১২জন ভবনের বাসিন্দাদের জিম্মি করে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঐ বাড়ি দখল ও পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে বলে অভিযোগ করা হয়। এমনকি তিনতলা ভবন ভেঙে তারা সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করেছে। এ সব নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে ডিসি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সর্বশেষ ২৩ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে লিখিতভাবে তার বক্তব্য চাওয়া হয়। তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং ভূমিদস্যু চক্রের পক্ষাবলম্বনের একাধিক অভিযোগ, তথ্য ও প্রমাণ মেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।