জাল জন্ম সনদে দলিল সম্পাদন করতে রাজি না হওয়ায় গৌরনদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। তাদের হামলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী মো. শাহাদাত হোসেন, অফিস সহায়ক এনায়েত হোসেন সরদার, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. কাওছার হোসেন, দলিল লেখক সজল সরকারসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার মুবাশ্বেরা সিদ্দিকা বাদী হয়ে সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লা, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন সুজন ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিলন খলিফাসহ ছাত্রলীগের ১০/১২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রবিবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার মুবাশ্বেরা সিদ্দিকা এজাহারে উল্লেখ করেন, ‘গত ২০ আগস্ট দলিল লেখক কামাল হোসেন মিয়া সাত জন দাতার নামোল্লেখ করে আমার কাছে একখানা দলিল দাখিল করেন। পর্যালোচনা করে দেখা যায় এর মধ্যে চার জনের জন্ম সনদ ভুয়া। এর পরেও মামলার প্রধান আসামি সুমন মোল্লাসহ অন্য আসামিরা দলিল সম্পাদনের জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি নিয়ে জাল-জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় আমি দলিলটি স্থগিত রেখে ঐ দলিল লেখককে বহিষ্কার করি। পরবর্তিতে আসামিরা ঐ চার জনের জন্ম সনদ জোগার করে ২৫ আগস্ট বিকালে দলিলটি আমার কাছে দাখিল করে। সেখানেও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরেও চাপের মুখে দলিলটি সম্পাদনের চেষ্টা চালায় সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লা, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন সুজন ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিলন খলিফাসহ অন্যরা। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা কাওছার হোসেনকে মারপিট শুরু করে। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদেরও মারপিট করতে থাকে। তারা হাতুড়ি দিয়ে অফিস সহায়ক এনায়েত হোসেন সরদারের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। অফিসের কম্পিউটার ভেঙে ফেলে এবং মূল্যবান দলিলপত্র তছনছ করেছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পৌঁছে। ঐদিন সন্ধ্যার পর পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। গতকাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।