ডেঙ্গুতে ১৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য

চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে ১৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। এর মধ্যে ৮৮টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে ৫২টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রমাণ পায়নি।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ৭৬৫ জন। গত জুন থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর খবরও আসতে থাকে। মৃত্যু পর্যালোচনা পদ্ধতি সম্পর্কে কমিটি প্রধান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা জানান, ডেঙ্গু মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা তিনভাবে কাজ করেন। প্রথমত, সব ক্লিনিক্যাল ডকুমেন্ট, চিকিত্সার তথ্য, হাসপাতালে থাকার সময়কার তথ্য পর্যালোচনা করতে হয়। তারপর ভার্বাল অটোপসি (মৃত্যুর কারণ বোঝার জন্য উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার তথ্য বিচার) এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ল্যাবের পরীক্ষায় পিসিআর (রক্তে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী ভাইরাসের জিন অবশেষ) পেয়ে যাই, তখন আমরা সরাসরি বলতে পারি যে ডেঙ্গুতেই তার মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করা হয় ডেঙ্গুর ‘সম্ভাব্য সংক্রমণ’ হিসেবে। মৃতের তালিকায় আমরা সেসব নাম দিই না।’

ডেঙ্গুর সর্বশেষ অবস্থার তথ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ৮৮ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৫২টি ডেঙ্গুজনিত কারণে বলে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করায় বাকিদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, পর্যালোচনায় বাকি ৩৬ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে আগের দিনের চেয়ে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন, যে সংখ্যা আগের দিন ছিল এ হাজার ২৯৯ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ৫৭৭ জন এবং বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭৪ জন ভর্তি হয়েছেন। আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, ‘অনেক ডেঙ্গু রোগী এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যায়। তখন রোগী হিসেবে তার নাম কিন্তু একাধিক হাসপাতালেই এন্ট্রি হয়। সে হাসপাতালগুলো থেকে যখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তালিকা আসে, তখন জানার উপায় নেই যে রোগীরা এক না একাধিক হাসপাতালে ছিলেন। আমরা একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার কথাও ভাবছি।’ বর্তমানে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিত্সাধীন আছেন ৫ হাজার ৫৬২ জন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮১ জন রয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে, অন্যান্য বিভাগে রয়েছেন ২ হাজার ৪৮১ জন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৯৮ জন, খুলনায় ১৪৯ জন, রংপুরে ২০ জন, রাজশাহীতে ৭৮ জন, বরিশালে ১১১ জন, সিলেটে ৯ জন এবং ময়মনসিংহে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে সোমবার পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩০ জন। গত রবিবার এ সংখ্যাটি ছিল ৫৭ হাজার ৪০৫ জন। 

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ জনের কারাদণ্ড ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই জনকে কারাদণ্ড ও ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটির ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০৬টি বাড়ি পরিদর্শন করে। এ সময় দুই জনকে কারাদণ্ড প্রদান, ছয় জন বাড়ি মালিককে সতর্ক করা এবং ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। তিনি জানান, কলাবাগান সেন্ট্রাল রোডের ৭৩/১ নম্বর হোল্ডিং এ এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় মো. আব্দুল মালেক এবং মো. ইউসুফ আলীকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান এবং সেন্ট্রাল রোডের ৭৩/বি হোল্ডিং এ এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অঞ্চল-১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। এছাড়া জিগাতলা ১৭/১ হোটেল সুনামীতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন এবং মশার লার্ভা উত্পন্ন সহায়ক পরিবেশের কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আলু বাজার এলাকায় এডিস মশার লার্ভা বাড়িতে পাওয়ায় ছয় জন বাড়ির মালিককে সতর্ক করে দিয়েছে আদালত। এদিকে চলমান ‘চিরুনি অভিযানের’ গতকাল ৩৬টি ওয়ার্ডের মোট ১০ হাজার ৭২০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২৯৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ সব বাড়ি ও স্থাপনায় ‘এ বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়’ লেখা স্টিকার লাগানো হয়। এছাড়া ৫ হাজার ১৩টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী স্থান/জমে থাকা পানি পাওয়া যায়।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত গুলশানের ‘এক্সিকিউটিভ ইন লিমিটেড’ কে ৩ লাখ টাকা এবং ‘মিরাকি রেস্টুরেন্ট’কে ৫০ হাজার টাকা, গুলশানে শান্তা প্রোপার্টিজকে ১ লাখ টাকা, শাহজাদপুরে ‘অনওয়ার্ড প্রোপার্টিজ’কে ৫০ হাজার টাকা এবং শাহজাদপুরে একটি ব্যক্তিগত নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এডিস মশা নির্মূলে চলমান চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মোহাম্মদপুরে পরিচ্ছন্নতা ও মশককর্মীদের কাজ পরিদর্শন করেন। নুরজাহান রোডের ঢাকা স্টেট কলেজের সামনে এলাকার বাড়ি মালিকগণের উদ্দেশে মেয়র বলেন, দুই বাড়ির ময়লা এ বারের মতো ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীগণ পরিষ্কার করে দিচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে কমিউনিটির লোকজনকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। চলমান চিরুনি অভিযানে সহযোগিতা করার জন্য মেয়র নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান। এডিস মশা নির্মূলে এ অভিযানে জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।