যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান ভারত ও পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে করতে পারবে। এর আগে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও গতকাল এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন। খবর এনডিটিভির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল বলেন, গত রাতে (রবিবার রাতে) আমরা কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে। ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলছে। আমার স্থির বিশ্বাস, তারা (ভারত ও পাকিস্তান) এমন কিছু করতে পারবে, যা খুবই ভালো হবে। ‘জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়কে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু বলে ইঙ্গিত করে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান আগের মতোই নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, অনেক দ্বিপাক্ষিক বিষয় আছে যেগুলো সমাধানে আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে চাই না। আমরা এটা দ্বিপাক্ষিকভাবে আলোচনা এবং মিটিয়ে ফেলতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, দুই দেশের কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করা উচিত ভারত ও পাকিস্তানের। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, দুই দেশের চ্যালেঞ্জ -নীরক্ষরতা, দারিদ্র্য এবং ব্যাধির সমাধান করতে হবে। জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য।
এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরক’ উল্লেখ করে মধ্যস্থতা করার কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যদিও সেই দাবি খারিজ করে ভারত জানায়, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে না। চলতি মাসের গোড়ার দিকে আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নিশ্চিতভাবেই হস্তক্ষেপ করতে চাই, যদি ভারত ও পাকিস্তান চায়। আবারও প্রতিবাদ জানায় নয়াদিল্লি।
মোদি ভাল ইংরেজি বলতে পারেন : ট্রাম্প
যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে অন্তরঙ্গতার ছবি ধরা পড়ে। দুই নেতার মধ্যে আলোচনা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে হিন্দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আমার মনে হয় আগে আলোচনা হোক, তারপর আমরা আপনাদের জানাবো কী প্রয়োজন। এরপর ট্রাম্প বলেন, আসলে তিনি খুব ভাল ইংরাজি বলেন। কিন্তু এই ভাষায় তিনি কথা বলতেই চান না। এরপর মৃদু হাসিমুখে দেখা যায় দুই নেতাকে, পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। উপস্থিত অনেকেই সেই সময় হাসিতে ফেটে পড়েন।
আবারো জাতিসংঘে যাবে পাকিস্তান : ইমরান খান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবেন বলে পাকিস্তানবাসীকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নিজেকে ‘কাশ্মীরবাসীর মুক্তির দূত’ উল্লেখ করে তিনি কাশ্মীর সিদ্ধান্তের জন্য ভারতের বিজেপি এবং সংঘের হিন্দুত্ববাদ আদর্শকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেনি দিল্লি। সুপ্রিম কোর্টেরও পরোয়া করেনি। মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরুর কাশ্মীরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানেরও পরিপন্থি। ইমরান খান বলেন, বিজেপি এবং আরএসএসের একটাই লক্ষ্য, হিন্দুস্তান শুধু হিন্দুদের। বাকিদের সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে হবে।