মিথ্যা ঘোষণায় মদ-বিয়ারসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানির বিষয়টি চীনা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্বীকার করায় বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানির মেশিনারিজ সামগ্রী খালাস প্রক্রিয়ার বাধা দূর হয়েছে। ইতিমধ্যে চীনা আমদানিকারকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ সামগ্রীর সঙ্গে ঐ সকল অবৈধ পণ্যের আমদানির কথা স্বীকার করে বৈধ পণ্যসমূহ দ্রুত খালাস করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলী শাহ আবদুল মাওলা চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিকট লিখিতপত্রে পুরো বিষয়টি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনায় অনুরোধ জানিয়েছেন। পায়রা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ ও চায়নার যৌথ অর্থায়নে ১৩২০ মেগাওয়াট আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। পত্রে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি দ্রুত ছাড়করণের অনুরোধ করা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আইনানুগভাবে দেখা হচ্ছে। জানা যায়, ইতিমধ্যে আমদানি আট চালানের মধ্যে ছয়টি চালান খালাস নেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি চালানের মধ্যে মেশিনারিজ সামগ্রীর সঙ্গে মদ-বিয়ার ও খাদ্যসামগ্রী থাকায় তা ছাড় করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে মিথ্যা ঘোষণা ও অবৈধভাবে আনা পণ্যসমূহ আলাদা করে পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য আনা মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি ছাড়করণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মদ-বিয়ার এবং খাদ্যসামগ্রী না নেওয়ার ব্যাপারে লিখিত পত্র দিয়েছে। এতে করে ঐ সকল সামগ্রী কাস্টমস বাজেয়াপ্ত করছে বলে জানা যায়। এদিকে কাস্টমসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পণ্য আমদানির জন্য আমদানিকারককে সর্বমোট ৩২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি পণ্য পাওয়ার প্ল্যান্টের সামগ্রীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় শুল্ক আরোপ করেছে।
জানা যায়, আটটি চালানে ৬৬৯ প্যাকেজের মধ্যে ২৭ প্যাকেজ মিথ্যা ঘোষণার পণ্য তথ্য বিয়ার-মদ ও নুডুলসসহ অন্য খাদ্যসামগ্রী ছিল। আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে কর্মরত চীনা নাগরিকদের খাওয়ার জন্য ঐ সকল পণ্য আনা হয়েছে। ঐ সকল পণ্য অন্য একটি চালানে আসার কথা থাকলেও ভুলে এই চালানের সঙ্গে রপ্তানিকারক তুলে দিয়েছে।
গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম কর্তৃক বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানির নামে আমদানি করা ক্যাপিটাল মেশিনারিজের সঙ্গে মদ-বিয়ার এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী আটক করে। উক্ত মেশিনারিজ সামগ্রী তিনটি লাইটারেজে ভর্তি করা সময়ের মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় ও অবৈধ পণ্যসামগ্রীর সন্ধান পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ সামগ্রীর সঙ্গে মদ-বিয়ার আমদানির ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশের প্রেক্ষিতে এক্ষেত্রে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল সোমবার একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারকে পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।