নিরাপদ সড়ক তৈরিতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলেও বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাড়ছে। যক্ষ্মা ও এইডস এর মত মরণব্যাধিতে মৃত্যুর চেয়েও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি। বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুর অষ্টম বৃহত্ কারণ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। গতকাল শুক্রবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বিশ্বে সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এদের অর্ধেকের বেশি পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী। সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া ঢালাওভাবে যানবাহনকে যান্ত্রিকীকরণও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ১০৪টি দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এসময় বেড়েছে।
নিরাপদ সড়কের জন্য আইন তৈরি করা, যানবাহনের মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমের মান উন্নত হওয়ার পরেও সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েছে। ৫ থেকে ২৯ বছর বসয়ী তরুণদের অকাল মৃত্যুর বড় কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। শিশু মৃত্যুর হার কমাতে নিরাপদ সড়কের প্রয়োজনীয়তা সেই বার্তাই দেয়।
বিশ্বে মোট ১৫৭টি দেশের তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এরমধ্যে ১২৩টি দেশে ট্রাফিক আইন রয়েছে। যানবাহনে জাতিসংঘের মানদন্ড অনুযায়ী মাত্র সাত-আটটি নির্দেশনা মেনে চলছে বিশ্বের ৪০টি দেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন করতে হলে নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবার মান উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশের নীতি নির্ধারকদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ সড়ক তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, বিশ্বে মোটরযানের মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে নিম্ন আয়ের দেশে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার ১৩ ভাগ সংঘটিত হচ্ছে এই দেশগুলোতে।
দেশভিত্তিক সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, তুলনামূলক ইউরোপ ও আমেরিকায় সড়ক দুর্ঘটনার হার কম। আমেরিকায় প্রতি লাখে ১৫ দশমিক ৬ এবং ইউরোপে ৯ দশমিক ৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই সংখ্যা প্রতি লাখে ২০ জনের উপরে। বিশ্বজুড়ে সড়কে মৃত্যু ২৯ ভাগ মোটরকার, ২৮ ভাগ দুই চাকার ও তিন চাকার যানবাহন দুর্ঘটনায় ঘটছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পায়ে চালিত যানবাহন ও সাইকেল ব্যবহারকারী রয়েছে ১৭ ভাগ।
নিরাপদ সড়ক তৈরির পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের মান উন্নত করা, সরকারি আইনগুলোকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তাছাড়া দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।