বিভিন্ন হেল্পলাইনে অভিযোগ দায়ের প্রসঙ্গে

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের হটলাইন হইল ১০৬। এই হটলাইনটি সমপ্রতি নানা কারণে জনপ্রিয় হইয়াছে। বিশেষ করিয়া বর্তমানে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হইতেছে, সেই ব্যাপারে দুদকের হটলাইনে একের পর এক অভিযোগ আসিতেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা হইতে গড়ে শতাধিক অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে বলিয়া দাবি করা হইতেছে। এই ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুদকের চিঠি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলিয়া আমরা আশা করি। তবে আজিকার সম্পাদকীয়র মূল প্রতিপাদ্য তাহা নহে। এই যে দুদক একটি হটলাইন চালু করিয়া ব্যাপকভাবে সাড়া পাইতেছে, তাহা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এখানে মিথ্যা অভিযোগেরও যথাযথ প্রতিকার থাকা বাঞ্ছনীয়। কেননা দুদকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে, ইহার কারণে অনেকের জীবন দুর্বিষহ হইয়া উঠিতে পারে। কাহারও কাহারও রাজনৈতিক জীবন বা ক্যারিয়ার নষ্ট হইয়া যাইতে পারে। যেহেতু মোবাইল হইতেও এই নাম্বারে ফোন করা যায়, তাই দেশের যেকোনো প্রান্ত হইতে যে কেহ অনায়াসেই অভিযোগ করিতে পারেন। তাই আমাদের দেখিতে হইবে যাহাতে কেহ মিথ্যা অভিযোগের শিকার না হন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা শত্রুতাবশত কাহাকেও হেয় না করা হয়।

অবশ্য আমাদের জানা মতে, দুদক যে সব অভিযোগ আমলে নেয়— তাহাও নহে। তাহাছাড়া দুদকের অভিযোগ দায়েরের বিশেষ পদ্ধতি আছে। সাধারণত এইসব অভিযোগ রেকর্ড হইয়া থাকে। দুদকের নিকট কেহ অভিযোগ করিলে অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় প্রদান, ডকুমেন্ট প্রদান প্রভৃতির ওপর পয়েন্ট নির্ধারণপূর্বক সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। ইহার পর তাহা গুরুত্বহীন মনে করিলে বাতিল করা হয়। আর অভিযোগ গুরুতর এবং তাহার ভিত্তি আছে বলিয়া মনে হইলে তদন্ত বা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু ইহারই মধ্যে যদি কোনো গরমিল পরিলক্ষিত হয়, তাহা হইলে প্রয়োজনে সেই অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও ব্যবস্থা আছে। তবে শুধু দুদক নহে, আরও যেইসব সেবাধর্মী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের হটলাইন তথা হেল্পলাইন আছে, সেখানেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত। এইখানে যাহাতে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের সুযোগ না থাকে, সেই দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সবখানে মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকিলে মিথ্যা অভিযোগের কারণে কাহারও চরিত্র হননের সুযোগ থাকিবে না। কেহ অন্যায়ভাবে সমাজে দুর্নীতিবাজ, চোর বা খারাপ লোক হিসাবে বিবেচিত হইবেন না। ইহার মাধ্যমে হটলাইনে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের হারও কমিয়া আসিবে।  তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ না করিয়া কাহাকেও দোষী সাব্যস্ত করা অন্যায়। এই অন্যায়ের শিকার যাহাতে কেহ না হন, সেই ব্যাপারে আমাদের সকলকেই সতর্ক থাকিতে হইবে।