খুলনায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ এইচপি দলের শুরুটা খারাপ হয়নি। সিরিজের প্রথম চার দিনের ম্যাচে গতকাল বাংলাদেশ এইচপি দল গোটা দিন ব্যাটিং করেছে। তবে সেই ব্যাটিংয়ে প্রাণ ছিল না। দিনভর শম্বুক গতির ব্যাটিং করেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। তাই স্কোরবোর্ডে রানের চাকা সচল ছিল না। স্বাগতিকদের স্কোরটাও তাই বড়ো হয়নি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি করলেও ধীর গতির ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
গতকাল ম্যাচের প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৩ রান। ৮৮ ওভার ব্যাট করে ২.৬৪ রেটে রান তুলেছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ১২৪, জাকির হাসান ৯ রানে অপরাজিত আছেন।
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ এইচপি দল। গতকাল ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই অবশ্য ওপেনার নাঈম শেখের (৯) উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান ও অধিনায়ক শান্তর জুটি কাটিয়ে দিয়েছিল প্রথম সেশন। কিন্তু লাঞ্চের পর ফিরেই সাইফ হাসান রানআউট হন। ৯৪ বল খেলে ১৮ রান করেন তিনি। ভেঙে যায় শান্ত-সাইফের ৬৯ রানের জুটি।
চারে ব্যাট করতে নামা ইয়াসির আলী রাব্বি উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ৪ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন এই নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে সাইফ ও ইয়াসির ফিরেন। ৯৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশের হাল ধরেন শান্ত ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। চতুর্থ উইকেটে তারা ৯৯ রান যোগ করেন। উইকেট আগলে খেললেও তারা রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত।
হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আফিফ হোসেনও। হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ উইকেটে স্থায়ী হননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৯৪ রানে পেইরিসের বলে বোল্ড হন আফিফ। ১০৮ বল খেলে ৭টি চারে ৫৪ রান করেন তিনি।
শান্ত অবশ্য সেঞ্চুরির পরও দলকে টেনে গেছেন। দিনের শেষ ভাগে আর বিপদ হতে দেননি। পঞ্চম উইকেটে জাকির হাসানের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। অবিচ্ছিন্ন থেকেই দিনের খেলা শেষ করেছেন তারা। একপ্রান্ত থাকা শান্ত ১২৪ রান করেছেন। যেখানে ছিল ১২টি চার ও ১টি ছয়ের মার। তবে এই বাঁহাতি বলও খেলেছেন অনেক। ১২৪ রান করতে গিয়ে ২৪৯ বল খেলেছেন শান্ত। লঙ্কানদের পক্ষে পেরেরা, পেইরিস ও মেন্ডিস একটি করে উইকেট নেন।
এখন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বড়ো স্কোর নির্ভর করছে শান্তর ব্যাটিংয়ের ওপর। আজ ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে শান্তর ইনিংসটা যত বড়ো হবে, বাংলাদেশের স্কোরটাও তত বড়ো হবে। এবং ম্যাচে স্বাগতিকদের অবস্থান শক্ত হবে। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হলে আজ দ্রুত রান তুলতে হবে বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসের স্কোরটাও ৪০০-এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সেই দৃঢ়তা দেখাতে পারবেন কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা এইচপি দল। তিন ম্যাচের স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সফরকারীরা। ওয়ানডেতে হারলেও চার দিনের ম্যাচে সিরিজ জেতা এখন স্বাগতিকদের জন্য মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।