উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ংয়ে এএফসি কাপ ফুটবলে আবাহনী আজ এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ফিরতি লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। বিকাল তিনটায় খেলা শুরু।
প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ায় আবাহনী নামবে জাতীয় দলের শক্তি নিয়ে। দেশের পতাকা আবাহনীর ফুটবলারদের সামনে। কোরিয়ান দলের বিপক্ষে আবাহনীর সহজ হিসেব। ড্র করলেই পরবর্তী রাউন্ডের খেলায় উঠে যাবে। জিতলে কথাই নেই। হেরে গেলে বিদায়। নকআউটের ম্যাচ এটি। ঢাকার মাঠে গত ২১ আগস্ট হোম ম্যাচে ইন্টনার জোন সেমিফাইনালের প্রথম লেগের খেলায় আবাহনী ৪-৩ গোলে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে জিতেছিল। আজকের ম্যাচটি উতরে গেলে আবাহনী ইন্টার জোন ফাইনালে খেলবে। সেটিও হবে হোম এন্ড অ্যাওয়ে, নকআউটের খেলা। তখন হবে ইন্টার জোন ফাইনাল। সেই দুটি ম্যাচ উতরে যেতে পারলে ফাইনাল খেলবে আবাহনী। ফাইনাল জিতলে এএফসি কাপে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন। সেটি এখনো দূরের হিসেব। এখন সামনে ফিরতি ম্যাচের অঙ্ক নিয়ে বসছেন ফুটবল দর্শক।
আবাহনীর সুবিধা নিজেদের হোম ম্যাচ জিতেছিল। সেই জয়টি আবাহনীর পথ সহজ করে দেয়। এখন সহজ পথ পাড়ি দিতে আবাহনীকে কঠিন লড়াই করতে হবে। কারণ উত্তর কোরিয়ার দেশের মাঠে খেলা। সবকিছুই তাদের অনুকূলে। এপ্রিল টোয়েন্ট ফাইভ প্রথম ম্যাচে হেরে খাদের কিনারায় রয়েছে। নিজেদের ঘরের মাঠে জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছে না তারা। আবাহনীকে গলাচেপে ধরতে সেটাই স্বাভাবিক। আবাহনীর জন্য সুবিধা হলো প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস। উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস এএফসিকে জানিয়েছেন ঢাকার ম্যাচটা জিতে ভীষণ শক্তি সঞ্চয় হয়েছে। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে আছে। তারপরও আজকের ম্যাচটি কঠিন ম্যাচ হবে।
ঢাকার ম্যাচের চেয়ে আজকের ম্যাচে বাড়তি শক্তিও পাচ্ছে আবাহনী। মামুনুল খেলতে পারেন। মিশরীয় ডিফেন্ডার আলাদিন নাসের এক ম্যাচ সাসপেনশন কাটিয়ে ফিরেছেন তাকেও মাঠে নামানো হতে পারে। কোচ মারিও বলেন, ‘আমরা আশাকরি মামুনুল খেলতে পারেন। আলাদিন নাসের ডিফেন্স লাইনে থাকলে আরো শক্তি বেড়ে যাবে। আলাদিন সেটপিসে কাজ করলে সেটি আমাদের জন্য ভালো হবে। সেটপিসে খুব দক্ষ সে।’ ডিফেন্স লাইনটাকে সীলগালা করতে চান কোচ। কারণ গোল হজম করলে ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যাবে মনে করছেন কোচ। বলেছেন, ‘আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। আবার এটাও ঠিক রক্ষণ শক্তিশালী করাই মূল গেম প্ল্যান হবে না। রক্ষণ দিয়েই জেতা যাবে না। আমরা কাউন্টার আক্রমণে খেলতে চাই যেটা ঢাকায় খেলেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গোল পেতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি তাহলে জোনাল সেমিফাইনালে জয় নিয়ে ঢাকায় ফিরতে পারব।’
উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে আবাহনী ঢাকায় যোগাযোগ করতে পারেনি। গতকাল বিকালে ঢাকায় আবাহনী ক্লাবের যোগাযোগ করে জানা গেছে তাদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ায় এক মিনিট কথা হয়েছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। শুনেছেন উত্তর কোরিয়া হতে ঢাকায় যোগাযোগ কঠিন। আবাহনী ক্লাব হতে বাংলাদেশে কথা বলতে ৪০০ টাকা মিনিট। মোবাইল ফোনের সিম কিনলে নানা নিয়ম পূরণ করে ৪০০ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।