২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টনের রফা না হওয়ায় মনোনীতদের আংশিক তালিকা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল রাতে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড.কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠক করেন নেতারা। সেখানে বন্টন সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ সকালে আবারো আলোচনা করবেন তারা। গতকাল ২০৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ নির্বাচন কমিশনের আপিল নিষ্পত্তির পর বাকি ৯৪ টি আসন জোট ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বন্টন করা হবে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি বলে চূড়ান্ত চিঠি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন আগামীকাল। কাল বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রার্থীদের চূড়ান্ত চিঠি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দিতে হবে। আর বিএনপিকে নির্বাচন কমিশনে ধানের শীষের প্রার্থীদের তালিকা জমা দিতে হবে। সুতরাং আজকের দিনটি হাতে আছে বিএনপির। এর মধ্যে আসন বন্টন ফায়সালা করে প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত চিঠি দিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজোটের শরিকদের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়, তো অন্য জোট বেঁকে বসে। ফলে সমঝোতা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বিএনপিকে। তারা সর্ব্বেচ্চ ৫০ টি আসন ছাড়তে রাজি। কিন্ত ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট চায় ৭০-৮০ টি। বিএনপি আসন ছাড়ের বিষয়ে বেশ সতর্ক। হিসাব-নিকাশ করেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটিকে এরই মধ্যে ২৫টি আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও কয়েকটি তারা নিশ্চিত করতে চাইছে। ঐক্যফ্রন্টের গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য পঞ্চাশের বেশি আসন চাইছে। এর মধ্যে গণফোরামের আসনসংখ্যা বেশি।
এসব দলের ভালো ও গ্রহণযোগ্য এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়লে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, এমন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে রাজি বিএনপি। কিন্তু শরিকদের দাবি, বিএনপি যা দিচ্ছে এর থেকে বেশি যোগ্য প্রার্থী আছে তাদের দলে। গণফোরাম চায় দশ আসন। বিএনপি ৬ টি আসনে ইতিবাচক। এর মধ্যে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭, আবু সাইয়িদকে পাবনা-১, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে মৌলভীবাজার-২, আ ম সা আমিনকে কুড়িগ্রাম-২, রেজা কিবরিয়াকে হবিগঞ্জ-১ দেওয়া হতে পারে। এটা নিয়েই দরকষাকষি চলছে। আসম আব্দুর রবের জেএসডিকে দুইটি আসনের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রবের লক্ষীপুর-৪, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনের কুমিল্লা-৪।
অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যকে দুটি আসন দেওয়ার চিন্তা করা হলেও তারা আরও চারটি আসন চাইছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ এবং এস এম আকরামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন দেওয়া হতে পারে। কর্নেল অব. অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি চায় চট্টগ্রাম-১৪, কুমিল্লা-৭, লক্ষীপুর-১ ও নেত্রকোণা-১ আসন। এলডিপি চট্টগ্রাম-৭ আসনটিও দাবি করে রেখেছে। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই ফজলে রাব্বীর জন্য গাইবান্ধা-৩ আসনটি চায়।
কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মোহাম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫ এবং শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ আসন পাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান পঞ্চগড়-২, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টির রিটা রহমান রংপুর-৩ আসন চান।
সবার প্রতীক ধানের শীষ, অলির ছাতা:এদিকে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থীই বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করবেন। কেবল মাত্র দলীয় প্রতীক ছাতায় ভোট করতে চান লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তবে তার দলের অন্যরা ধানের শীষে নির্বাচন করবেন। অলি গত ১১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দেন।