মানবতাবিরোধী মামলায় রাজশাহীর সামাদের মৃত্যুদণ্ড

মানবতবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর পুটিয়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার রাজাকার আব্দুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা চারটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেওয়া হলো।

এদিকে রায়ে সন্তুষ্ট নন আসামিপক্ষ। তার আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আপিল বিভাগে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তবে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর এ মামলার তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল। তখন আসামি করা হয় ছয় জনকে। তদন্তকালীন সময়ে পাঁচ আসামির মৃত্যু হয়। একমাত্র আসামি ছিলেন মো. আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমভাগ এবং গোটিয়া গ্রামে আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালান মুসা রাজাকার। এ সময় তার নেতৃত্বে সেখানে চলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পুটিয়া আক্রমণ করে মানুষ হত্যা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করলে মুসা হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি সামাদকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।