প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরো ৭৮ জন

রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আরো ৭৮জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আজ আপিল শুনানি শেষ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার শুনানির দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশন ১৫০টি আপিল আবেদন শোনেন। এই দিন শুনানিতে আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে ৬৫ জনের। এদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি-জাপার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমি হাওলাদার, বিএনপি ডা. এজেড জাহিদ হোসেন ও সামির কাদের চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। বিএনপির ২১জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ভোটের লড়াইয়ে ফিরেছেন বিএনপির এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, এবাদুর রহমান চৌধুরী, চিত্রনায়ক সোহেল রানা, গণফোরামের রেজা কিবরিয়া। ৭টি আপিল আবেদন স্থগিত রয়েছে।

প্রথমদিনের মতো গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় স্থগিত এজলাশে ক্রমিক নম্বর ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো :রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)  শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এই শুনানিতে বিচারকের আসনে ছিলেন। ছোটখাটো ত্রুটির কারণে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিলকৃত মনোনয়ন আপিলে ফিরে পান বেশিরভাগ প্রার্থী। প্রথমদিন ১৬০জনের শুনানি হলে ৮০জন প্রার্থিতা ফিরে পান। ৭৬ জনের বাতিল হয় আর ৪টি আপিল স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও গণফোরামের হরিবগঞ্জ-১ আসনের রেজা কিবরিয়াও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

২১ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপি : দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে বিএনপি আরো ২১জনের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে। তারা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ মো. মুসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৭ আবু আহমেদ হাসনাত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আবদুল খালেক, বরগুনা-১ মতিয়ার রহমান তালুকদার, ভোলা-১ গোলাম নবী আলমগীর, পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার, ঢাকা-১৬ আলহাজ্ব একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, কিশোরগঞ্জ-১ খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মানিকগঞ্জ-২ মঈনুল ইসলাম খান, মুন্সীগঞ্জ-১ মো. আব্দুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ-৩ সাইফুল ইসলাম সুমন, নারায়ণগঞ্জ-৪ মামুন মাহমুদ, মৌলভীবাজার-১ এবাদুর রহমান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, ঢাকা-১ ফাহিমা হুসাইন জুবলী, টাঙ্গাইল-৬ নূর মোহাম্মদ খান, শরীয়তপুর-১ সরদার একেএম নাসির উদ্দিন, জামালপুর-১ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, মাদারীপুর-১ নাদিরা আক্তার। এর আগে প্রথমদিনে দলটি ৩৭জনের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিল।

বিএনপির বাতিল প্রার্থীরা :কুমিল্লা-১০ আবদুর গফুর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-৬ সামির কাদের চৌধুরী, ফেনী-৩ আবদুল লতিফ জনি, কিশোরগঞ্জ-৪ সুরঞ্জন ঘোষ, সুনামগঞ্জ-১ কামরুজ্জামান কামরুল, ময়মনসিংহ-৪ এজেড জাহিদ হোসেন। শুনানিতে রায় স্থগিত : ঢাকা-২ আসনে আমান উল্লাহ আমান (বিএনপি), ঢাকা-৯ আফরোজা আব্বাস (বিএনপি), ঢাকা-২০ সুলতানা আহমেদ (বিএনপি)।

ভোটে জাপার ৭জন : চাঁদপুর-৫ আসনের খোরশেদ আলম খুশু, বরিশাল-২ আসনের মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সালাউদ্দীন খোকা, ঢাকা-৮ আসনে মাহমুদা রহমান মুন্নী, ঢাকা-১৬ আসনে মোহাম্মদ আমানত হোসেন, মানিকগঞ্জ-২ আসনে এসএম আব্দুল মান্নান ও সিলেট-৫ আসনের সেলিম উদ্দিন।

১২ স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটে ফিরলেন:চট্টগ্রাম-৮ আসনে হাসান মাহমুদ চৌধুরী, বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বরিশাল-২ আসনে একে ফাইয়াজুল হক, বরিশাল-২ আসনে সৈয়দ রুবিনা আক্তার, পটুয়াখালী-২ আসনে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, টাঙ্গাইল-৬ আসনে মোহাম্মদ আবুল কাশেম, টাঙ্গাইল-৬ আসনে ব্যরিষ্টার এম আশরাফুল ইসলাম, মাদারীপুর-২ আসনে আল আমিন মোল্লা, হবিগঞ্জ-১ আসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ময়মনসিংহ-৮ আসনে মাহমুদ হাসান সুমন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলো জাকের পার্টির ৭জন:পটুয়াখালী-১ আসনে মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, বরিশাল-১ আসনে মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, শরীয়তপুর-২ আসনে মোহাম্মদ বাদল কাজী, মাদারীপুর-১ আসনে মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে এরশাদ হোসাইন, ঢাকা-১ আসনে সামসউদ্দীন আহমেদ ও ময়মনসিং????হ-৫ আসনে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে জাসদের ৪জন:প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন-নরসিংদী-২ আসনের জায়দুল কবীর, গাজীপুর-৩ আসনে মোহাম্মদ জহিরুল হক মণ্ডল বাচ্চু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সেলিনা সুলতানা, রংপুর-২ আসনের কুমারেশ চন্দ্র রায়।

সিপিবির ৫ জন বৈধ :এরা হলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের আতাউর রহমান, ঢাকা-২ আসনে সুকান্ত শফি চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নুরুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনে সুশান্ত ভাওয়াল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৬জন বৈধ: তারা হলেন, ঢাকা-৩ আসনের মোহাম্মদ সুলতান আহমদ খান, কিশোরগঞ্জ-২ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রুবেল, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মোহাম্মদ মুসা খান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ মিয়া, ময়মনসিংহ-১১ আসনে মোহাম্মদ আমানউল্লাহ সরকার, ময়মনসিংহ-১ আসনে মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ইসলামী ঐক্যজোটের দুই জন হলেন, কুমিল্লা-১ আসনে মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন, সিলেট-৫ আসনে এমএ মতিন চৌধুরী। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৩জন হলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ দেলোয়ার, টাঙ্গাইল-৬ আসনে মামুনুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ আসনে এসএম চান মিয়া। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন:এরা হলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ আজিজুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে সাইফ উদ্দীন আহমদ খান ও খেলাফত মজলিসের টাঙ্গাইল-৭ আসনের সৈয়দ মজিবর রহমান। এছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ঢাকা-৮ আসনে এসএম সরওয়ার, জেএসডি’র কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, ঢাকা-১৮ আসনে শহীদ উদ্দীন মাহমুদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রকোণা-১ আসনে মো. এমএ করীম আব্বাসী, বাংলাদেশে ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের টাঙ্গাইল-৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউর রহমান খান ও টাঙ্গাইল-৬ আসনে সুলতান মাহমুদ। জেপির গোপালগঞ্জ-৩ এ জেড অপু শেখ, বিএনএফের পিরোজপুর-১ মনিমোহন বিশ্বাস।

এর বাইরে বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রতনার মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল বাতিল হয়। ঝালকাঠি-১ শাহজাহান ওমরের মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল বজলুল হক হারুনের, বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিএনপির মেজবাউদ্দীন ফরহাদ, পিরোজপুর-৩ স্বতন্ত্র আশরাফুর রহমান বিরুদ্ধে জাপার রুস্তম আলী ফরাজী, ভোলা-৪ আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল জ্যাকবের বিরুদ্ধে নাজিমুদ্দীন আলমের এবং বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে খেলাফত আন্দোলনের মাহাবুবুল আলম এর আপিল বাতিল হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। সে সময় মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে ৭৮৬টি বাতিল হয়। যার অধিকাংশই ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীর। এর মধ্যে ৫৪৩জন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করে। আজ তৃতীয়দিনে ক্রমিক নং ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।