এনটিআর বাবদ চবক সরকারকে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) সরকারকে কর বহির্ভূত আয় (ননট্যাক্স রেভিনিউ-এনটিআর) বাবদ ১০০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। সম্প্রতি চবক অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১০০ কোটি টাকার চেক প্রদান করেছে। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ বছরে বন্দরের আয় ১০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।


জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর প্রতিবছর এনটিআর বাবদ ৮০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়। সে অনুযায়ী চবক চলতি বছরের ৮০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী বছরের ৮০ কোটি টাকার অংশ বিশেষ প্রদান করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ সালে বন্দরের আয় ছিল ৯৪ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। ২০০২ সালে বন্দরের আয় ছিল প্রায় ১০১ কোটি টাকা। ২০০৩ সালে বন্দরের আয় ছিল ৮১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। ২০০৪ সালে ১৩০ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। ২০০৫ সালে ২০৬ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ২০০৬ সালে ২২০ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। ২০০৭ সালে ২১৮ কোটি টাকা। ২০০৮ সালে ৩৭৭ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে ৪০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০১০ সালে ২৭৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। ২০১১ সালে ৪৮৩ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। ২০১২ সালে ৪৭৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। ২০১৩ সালে ৩২৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালে ২৭৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ৫৭৯ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালে ৫৫১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। ২০১৭ সালে ৬৩২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। ২০১৮ সালে ৮৩৫ কোটি ২১ লক্ষ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

আরও পড়ুন: যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত নারীর মৃত্যু

বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এনটিআর দেওয়া নিয়ে চবকের আপত্তির বিষয় বিচারাধীন বা আর্বিট্রেশন পর্যায়ে থাকা অবস্থায় এই টাকা প্রদান করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বারবার অনুরোধের কারণে চবক টাকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিপূর্বে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চবক সর্বশেষ এনটিআর বাবদ ২০ কোটি টাকা সরকারকে প্রদান করেছিল। এরপর চবকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা এমনিতেই প্রতিবছর ট্যাক্স, ভ্যাটসহ অন্যান্য খাতে বিশাল অংকের টাকা প্রদান করে আসছে। এর ওপর আবার এনটিআর বাবদ টাকা প্রদান করা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। এনটিআর বাবদ যে টাকা প্রদান করবে ঐ টাকার ক্ষেত্রে তাদের শুল্ক রেয়াত দিতে হবে। চবকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্তে আপত্তি জানানোর পর সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে বিষয়টি পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে উপরোক্ত আপত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, পরবর্তী বৈঠকে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বন্দরকে বারবার এনটিআর বাবদ ধার্য টাকা প্রদানের তাগাদা দেয়ার প্রেক্ষিতে চবক ১০০ কোটি টাকা প্রদান করে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, চবক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন ১৯ পর্যন্ত সরকারকে আয়কর বাবদ পরিশোধ করেছে ৪১৫ কোটি টাকা। জুন ১৯ পর্যন্ত সকল খরচ ছাড়া বন্দরের আয় হয়েছে এক হাজার তিন কোটি টাকা। চবক কর্তৃক প্রদানকৃত ১০০ কোটি টাকা উক্ত মূল আয় থেকে দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইউবি