নবাবগঞ্জে মুরগির খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামে গরু ও পোল্ট্রি মুরগির খামার ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান দোলনের খামারের মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসী জানান, খামারের পাশেই রয়েছে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ খামারের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করতে পারছে না। এলাকাবাসী থাকতে পারছেন না বাড়িতে। পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। অতিদ্রুত এর প্রতিকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার  সচেতন মানুষ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আওনা গ্রামের বড় রাস্তার পাশে প্রায় বিশ বিঘা জমির উপর টিনশেড দিয়ে বড় বড় দুটি লম্বা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে একটি ঘরের  ভেতর ষাঁড় গরু মোটা তাজাকরণসহ ডেইরি ফার্ম এবং অন্য ঘরে লেয়ার মুরগির খামার করেছেন খামারি মাহমুদুল হাসান দোলন। দুই খামারের মাঝে বড় রাস্তার পাশে পুকুর খনন করে মাছ চাষও করেন দোলন। খামারের পাশ দিয়ে একটি বড় রাস্তা রয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। খামারের পাশেই এম মুহীয়্যুদদীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়, আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেন, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাজারসহ জনবসতি। রাস্তার পাশে বিদ্যালয় দুটির শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউকে  নাকে হাত দিয়ে, আবার কাউকে মুখে কাপড় দিয়ে ক্লাস করতে দেখা যায়। বাজারের ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা।

আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মো. তাকবীর হোসেন বলেন, খামারের দুর্গন্ধে ক্লাসে এক হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে লিখতে হয়। এভাবে ক্লাসে পড়াশোনা করতে আমাদের খুবই কষ্ট  হচ্ছে। এম মুহীয়্যুদদীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সজল মোল্লা বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। খামারের দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে পরীক্ষা শেষ না করেই হল থেকে বের হয়ে এলাম।

আবেদুননেছা শরিফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন বলেন, খামারের বিষ্ঠার গন্ধে ঠিকমতো নামাজ পড়তে পারি না। মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরাও অতিষ্ঠ হয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। অতিদ্রুত এর একটা বিহিত করা দরকার।

পথচারী রিপন হোসেন বলেন, বাজারে যেতে হলে এ খামারের পাশের রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। খামারের কাছে আসলেই নাকে কাপড় চেপে রাখতে হয়। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আওনা বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি মো. পাপ্পু ভুঁইয়া বলেন, খামারের দুর্গন্ধের কারণে বাজারে মানুষ আসতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে বাজারটাই একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে অর্গানিক এগ্রো ফার্মের মালিক মাহমুদুল হাসান দোলন খামারের দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, মাঝে মাঝে একটু এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করে দিলে দুর্গন্ধ দ্রুত চলে যায়। তবে দুর্গন্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আগামী এক মাসের মধ্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করছি। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা যাতে স্বস্তিতে চলতে পারে তার জন্য দিনে ৩/৪ বার স্প্রে করা হবে। খামার তৈরিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনুমতি নিয়েই ব্যবসা করছি।