সোনারগাঁয়ে গলাকেটে ইমাম হত্যার আসামি গ্রেফতার

সোনারগাঁও উপজেলার মল্লিকেরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামকে জবাই করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে তাকে মাদারীপুর শিবচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামি ইমামকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সুইসাইড নোট রেখে কুমিল্লায় কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

পুলিশ জানায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকেরপাড়া বাইতুল জালাল জামে মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা ধার নেন তার বন্ধু ওয়াহিদুজ্জামান।  দিদারুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরেই তার পাওনা টাকা চেয়ে আসছিলেন। ওয়াহিদুজ্জামান মাদারীপুর শিবচর এলাকার একটি মসজিদের ইমাম। গত ২১ আগস্ট রাতে মল্লিকপাড়া মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামের কাছে আসার সময় তার বন্ধু ওয়াহিদুজ্জামান দুটি কোকের বোতল নিয়ে আসেন। এর মধ্যে একটি বোতলে ঘুমের ওষুধ মিশানো ছিল। ঘুমের ওষুধ মিশানো বোতলটি ইমাম দিদারুল ইসলামকে খেতে দেওয়া হয় এবং অন্য বোতলটি সে নিজে খায়। খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে দিদারুল ইসলাম ঘুমিয়ে পড়লে তার শয়ন কক্ষে রাখা কোরবানীর পশু জবাইয়ের ছুড়ি দিয়ে তাকে জবাই করে। পরে ঘাতকের রক্তমাখা লুঙ্গি ও দুটি কোকের বোতল মসজিদের পাশের ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন নিহত ইমাম দিদারুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমার বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত দিদারুল ইসলাম খুলনা তেরোখাদা গ্রামের আফতাব ফরাজীর ছেলে। এদিকে ঘটনার ৬ দিন পর সোনারগাঁ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে মাদারীপুর এলাকা থেকে ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বুধবার দুপুরে মল্লিকেরপাড়া মসজিদের পাশের ডোবা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও কোকের দুটি বোতল আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কার্যালয়ে নেওয়া হলে সে এসপির উপস্থিতিতে সত্যার বর্ণনাদিয়ে দায় স্বীকার করে।

ইত্তেফাক/এমআরএম