স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান শিল্পী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার সংগীতজগতে এসেছিলেন মূলত মায়ের প্রেরণায়। জন্ম কুষ্টিয়ায়। গাইতেন মূলত বেতারে। একটি বিষয় আমরা বারবার লক্ষ করছি প্লেব্যাক শিল্পীদের ক্ষেত্রে— তাঁদের প্রত্যেকেরই শিল্পী হিসেবে পথচলার সূচনা বেতার থেকে। মোহাম্মদ আবদুল জব্বার বেতারে গান গাইতে শুরু করেন ১৯৫৮ সাল থেকে। টেলিভিশনে গাওয়ার সূচনা ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালে বেতারে গাওয়া কবি আজিজুর রহমান রচিত ‘তারাভরা রাতে তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায়’ গানটি দিয়ে আবদুল জব্বার শিল্পী হিসেবে তাঁর জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। বহু কালোত্তীর্ণ আধুনিক ও সিনেমার গানের মধ্য দিয়ে আবদুল জব্বার ঠাঁই করে নিয়েছেন শ্রোতাদের হূদয়ের গভীরে।
তাঁর গাওয়া কিছু অবিস্মরণীয় সিনেমার গান: তুমি কি দেখেছ কভু (এতটুকু আশা, ১৯৬৮), তোমরা যাদের মানুষ বলো না (মায়ের সংসার, ১৯৬৯), ঘুরে এলাম কত (আলিঙ্গন, ১৯৬৯) নীরব পৃথিবী দুয়ারে তোমার (যে আগুনে পুড়ি, ১৯৭০), কে যেন আমায় ডাকে (অধিকার, ১৯৭০), আমাদের বন্দি করে যদি ওরা ভাবে (সুখ দুঃখ, ১৯৭১), এই আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে (বাঘা বাঙালি, ১৯৭২), ব্যথার আগুন যদি (ঝড়ের পাখি, ১৯৭৩), মুখ দেখে ভুল কোরো না (সাধু শয়তান, ১৯৭৫), সাথি আমার হলো না তো কেউ (স্মাগলার, ১৯৭৬), ওরে নীল দরিয়া (সারেং বৌ, ১৯৭৮), জানি কবিতার চেয়ে তুমি সুন্দরতম (মেঘের পরে মেঘ, ১৯৭৮)।
মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের গাওয়া কিছু স্মরণীয় আধুনিক গান: আমি প্রদীপের মতো (কথা: ফজল-এ-খোদা, সুর: শিল্পী), আমার এ চোখ দুটো আয়না করে (কথা: লোকমান হোসেন ফকির, সুর: আবদুল আহাদ), নীরবতা শুধু ঢেকে রয় (কথা: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুর: আবদুল আহাদ), একটি নদীর গান শোনাব (কথা: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুর: ধীর আলী মিয়া), তোমার ডাগর চোখে সাগর দোলে (কথা: হাবিবুর রহমান, সুর: আবদুল আহাদ), অমন ভাবছ কেন দেখা হবে না (মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর: খোন্দকার নুরুল আলম)।
সূত্র: বাংলাদেশের সিনেমার স্মৃতি জাগানিয়া গান/আসলাম আহসান (বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, ২০১৬)