ভূমিকা :আমরা বাক্স্বাধীনতা চাই, কিন্তু যার যার কাজে দায়িত্বশীল হতে চাই না। এ সম্পর্কে আপনার
মতামত কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের
কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া
প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।
আমরা বাক্স্বাধীনতার কথা বললে আমাদের চিন্তা, চেতনা, মূল্যবোধ, ধর্মীয় বিষয়গুলো এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের দেশের সঙ্গে আমাদের বাক্স্বাধীনতার কথা ভাবলে চলবে না। যেহেতু আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি ইত্যাদি রয়েছে। সেটাকেই অনুধাবন করতে হবে।
করিম
রিক, ধানমন্ডি, ঢাকা।
আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। যার যার অবস্থান থেকে সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়নতা, নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত। তা-না হয়ে আমরা শুধু বাক্স্বাধীনতা চাই,তা নিয়ে হইচই করে থাকি, যা আদৌ ঠিক নয়। কাজেই নিজের জীবনের উন্নতি যেমন নিহিত রয়েছে ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি এর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সুতরাং আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করে দেশ ও দশের কাজে আত্মনিয়োগ করাটাই বাঞ্ছনীয় বলে আমি মনে করি। তা-না হলে দায়িত্বশীলতার পরিবর্তে দায়িত্বহীনতায় গোটা জাতি ডুব সাঁতারে ডুব দিয়ে তলিয়ে যাবে সন্দেহ হচ্ছে।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
প্রধান উপদেষ্টা নজরুল একাডেমি,
হাউজিং স্টেট, সেক্টর-২, রাজশাহী।
দায়িত্বের প্রতি মর্যাদা, মূল্যবোধ, শ্রদ্ধা রাখা, বিষয়টি ধর্মীয় রীতি এবং আইন। দায়িত্বশীলতা প্রতিটা মানুষের জন্য আবশ্যকীয় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা নিজেদের শিক্ষিত সভ্য বলে দাবি করলেও বাস্তবতা অমানবিক ও ভিন্ন। পরিবেশ, সমাজ তথা রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা নিজ নিজ অধিকার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে চাইলেও অন্যদের প্রতি ব্যাপক বৈষম্য এবং বেখেয়াল। যা কি না বড়ো ধরনের অন্যায়। ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বশীলতার কারণে পৃথিবীতে হানাহানি-অশান্তি বিরাজ করছে। তাই আসুন যার যার অবস্থান থেকে সত্, অফিসে নিজ নিজ কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হই। দায়িত্বের সুমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে শান্তিময় বিশ্ব গড়ি।
মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (নাছিম)
নির্বাহী পরিচালক, স্বাধীন জীবন, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, ফিরাজগঞ্জ।
দায়িত্বশীল কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে যে যার স্থান থেকে সহমর্মিতার সঙ্গে, বিনয়ের সঙ্গে, সততার সঙ্গে, নিয়ম-শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা অবশ্যই উচিত; সেটা যে কোনো কাজই হোক এবং ক্ষুদ্র হোক। সেটাকে কোনোভাবেই অবহেলা বা তুচ্ছ মনে করা ঠিক নয়। দায়িত্বশীলতার পরিবর্তে দায়িত্বহীনভাবে কর্মসম্পাদন করলে তার ফলাফল ভালো হয় না যে, একদিন সেটা বোঝা যায়।
আজাদ/মন্জু
উত্তরা, ঢাকা।
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে— কথাটি সত্য। আমরা শুধু বাক্স্বাধীনতা চাই, কিন্তু যার যার কাজে দায়িত্বশীল হতে চাই না—এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অথচ কাজেই মানুষের পরিচয়, কাজেই তার ফলাফল।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা।
বাক্স্বাধীনতার কথা চিন্তা করলে আমাদের দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইউরোপের সঙ্গে বা পাশ্চাত্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করে আমাদের বাক্স্বাধীনতার কথা চিন্তা করা সমীচীন হবে না। এ কারণে বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, প্রিন্ট মিডিয়ায় যেভাবে চিন্তা করে বা তাদের মতামত প্রকাশ করে তাতে বাক্স্বাধীনতা ব্যাহত হওয়ার কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি বা কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। দ্বিতীয়ত—ব্যক্তিগত ব্যাপারে বা সামাজিক বিষয় নিয়ে যখন কোনো অশালীন কথা বলেন বা সীমা লঙ্ঘন করেন তখনই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক থাকলে মনে হয় বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কোনো বিতর্কের কারণ হবে না।
মাখরাজ খয়ন
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব থাকে। এই দায়িত্বগুলো আমাদের পালন করা অবশ্যই জরুরি; কিন্তু আজকাল দেখা যায় যে, সবাই তার নিজের কাজটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের যে একটা দায়িত্ব আছে সেটা তারা কিছুতেই পালন করতে চায় না; কিন্তু এটা আসলে ঠিক নয়। কারণ যার যে দায়িত্ব সেটা যদি সবাই পালন করে তাহলে সবারই ভালো হবে।
ফারজানা ফাইজা কানিজ
রায়গঞ্জ উপজেলা সদর, ডানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ, একাদশ শ্রেণি, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।
শুধু ফেসবুক, টুইটার বা সামাজিক সাইটগুলোতে বাক্স্বাধীনতার চর্চা না করে যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা আরো দায়িত্বশীল হই তবেই হয়তো সার্বজনীন উপকার হবে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, বনায়ন, সড়ক দুর্ঘটনা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পোস্ট দিয়েই এখন নিজের দায়িত্বশীলতার প্রকাশ অনেকে করে থাকে যা নিরর্থক। অথচ নিজের দায়িত্ব পালনে অনেকেই ব্যর্থ, তাই আমার মনে হয় বাক্স্বাধীনতা দায়িত্বশীল লোকের জন্য অধিকতর আদর্শনীয়। কথা কম, কাজ হোক বেশি—এটাই হোক আমাদের সংস্কৃতি।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
সাভার, ঢাকা।
দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই; পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। সৌভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে কোনো মানুষের জন্ম হয় না। কর্মের মাধ্যমে তার ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। পরিশ্রমই সৌভাগ্য বয়ে আনে। উদ্যম, চেষ্টা ও শ্রমের সমষ্টিই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কঠিন কাজও সহজ হয়ে ওঠে। জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম ছাড়া কেউ কখনো তার ভাগ্যকে গড়ে তুলতে পারেনি। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। আপনি যে কাজ একবার শুরু করবেন, তা নিয়ে দ্বিধান্বিত হবেন না। সফল হওয়ার ইচ্ছা আর পরিশ্রম দিয়ে সেই কাজ করে যান। বড়ো কিছু অর্জনের জন্য যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করে যান, দায়িত্বশীল হোন—সফলতা আসবেই।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর,
দিনাজপুর।
আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উদ্ভাবনী এবং প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ একটি প্রজন্ম। আমাদের হাতের মুঠোয় এখন সমাজ বদলের নানা অনুষঙ্গ। আমাদের সামান্য চিন্তায় বদলে যাবে সমাজ। সামনে যে সুযোগ আসবে, সেটাই খপ করে ধরে ফেলতে হবে। ক্যারিয়ারের শুরুতে যা করার সুযোগ আসবে তা-ই করতে হবে। সব নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের দক্ষতাকে আরো বিকশিত করবে, দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেবে। যে কোনো কাজকে ভালোবাসব, কাজ উপভোগ করব। অভিজ্ঞতাই আমাদের সাফল্যের গতি নির্ধারণ করে দেবে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হব, কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। আর সফলতার জন্য চাই, দায়িত্বশীলতা-ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম বলে আমি মনে করি।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার মূলমন্ত্র হচ্ছে বাক্স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অর্থ এই নয়, আপনার ইচ্ছে হলো আপনি এখন রাস্তার মধ্যখান দিয়ে হাঁটবেন, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলবেন, পরিবেশ দূষণ করবেন, একে তো আপনি এই দেশের এক জন মালিক তার ওপরে স্বাধীন। আপনাকে ঠেকায় কে? বাক্স্বাধীনতার অর্থ দায়িত্বহীনতা নয়, বাক্স্বাধীনতার অর্থ যার যার কাজে দায়িত্বশীল হওয়া, দায়িত্বশীল মন্তব্য ও গঠনমূলক উক্তি করা এবং অন্যের অধিকার খর্ব না করা।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হকভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা।
কথায় সে বড়ো হয় না, কাজে যে বড়ো নয়। নগরবাসীর সুযোগ-সুবিধার দায়িত্ব নিয়ে নগরপিতা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হোন। ঢাকা শহর থেকে সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে মেয়র ও কাউন্সিলদের দায়িত্বহীনতার কারণে। সরকারের উচিত এখন এই ডেঙ্গুকে মহামারি ঘোষণা দেওয়া। কারণ মহামারিতে যাদের মৃত্যু হয়, ইসলামি মতাদর্শে তারা শহীদের দরজা পায়। নগরবাসী মনে করে, সিটি করপোরেশনের অধীনে মশক নিধন হবে। মশক নিধনের জন্য ওষুধ ও মেশিনপত্র ও জ্বালানির যে অর্থ বরাদ্দ হয়, এত দিন সে অর্থ কোথায় গেছে। যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা যদি দায়িত্বশীল হতেন, তাহলে এতগুলো তাজা প্রাণ চলে যেত না।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬০/১০ উত্তর পীরেবাগ,
মিরপুর-১০, ঢাকা।
দায়িত্বশীল হওয়া কতটা প্রয়োজন, তা বিবেকবান ব্যক্তি একমাত্র বলতে পারেন। এজন্য সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। সর্বাগ্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনেক আন্তরিক হতে হবে—এটাই প্রত্যাশা।
লায়ন রবিউল হোসেন রবি
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।
যে কোনো কাজ সেটা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, সেটার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া অবশ্যই অপরিহার্য। আমাদের জাতীয় অনেক কাজে, যেমন—প্রকল্প কাজের অগ্রগতির বিষয়ে কথা কাজে মিল পাওয়া যায় না। সেখানে অনিয়ম চরম দেখা যায়। সময়ের মধ্যে কাজ সমাধা হওয়াটাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
আল মায়মী
ফুলবাড়িয়া, সাভার।
প্রত্যেক ধর্মে মানুষকে দায়িত্বশীল হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছে। ধর্মীয় গ্রন্থে মানুষকে দায়িত্বশীল হওয়ার ব্যাপারে উপদেশও প্রদান করেছেন। দায়িত্বশীল বা দায়িত্বনিষ্ঠ হওয়ার জন্য এসব উপদেশকে গ্রহণ করা উচিত এবং কর্মজীবনে আমলে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। একজন মানুষ যখন তার জীবনের প্রতিটি বিষয় এবং নিজ পদের সঠিক দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে, তখনই সেটা হয় দায়িত্বশীলতা। দায়িত্বশীল হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে সহযোগিতা করে তার বিবেক। বিবেকের তাগিদে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়। আর এই মূল্যবোধ সুচারু ব্যবহারের মাধ্যমে নিরূপিত হয় দায়িত্ববোধ। এই দায়িত্ববোধই প্রকৃত দায়িত্বনিষ্ঠা।
অমিত বণিক
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উত্তরা, ঢাকা।
আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। কেউ দায়িত্বশীল আবার কেউ দায়িত্বশীল নয়। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা দেশকে সামনের দিকের পরিবর্তে পিছনের দিকে নিয়ে যায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের অনেক দায়িত্ব ছিল; কিন্তু তিনি দায়িত্বশীল ছিলেন না বলেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দায়িত্বশীল না হলে যা হয় তাই হয়েছে। আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী।