বাংলাদেশের জন্য এটা একটা উভয় সমস্যা। নিজেদের শক্তি স্পিন। কিন্তু স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে খেলা বিপদ। কারণ, আফগানিস্তানের হাতে আছে আরো শক্তিশালী কয়েক জন স্পিনার। এই স্পিন নিয়ে একটু আতঙ্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশি ওপেনার সাদমান ইসলাম বলছেন, তারা স্পিন নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছেন। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাদমানের ধারণা, তারা আফগান স্পিন খেলতে প্রস্তুত আছেন।
সাধারণত বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণ নিয়ে পরিকল্পনা করে অভ্যস্ত। সাদমান বলছেন, এবার তারা স্পিন নিয়ে বাড়তি কাজ করছেন। আর সেটা করার যৌক্তিকতা নিজেই তুলে ধরে বলছিলেন, ‘আফগানিস্তানকে নিয়ে একটু আলাদা পরিকল্পনা করছিলাম কারণ, ওদের স্পিন অ্যাটাকটা খুব ভালো। সবসময় তো পেস বোলিং নিয়ে বাড়তি কাজ হয়, এবার চিন্তা করছি একটু স্পিনারদের নিয়ে বাড়তি কাজ করতে হবে। ওদের বেশিরভাগ বোলার রশিদ খান-মোহাম্মাদ নবি একটু ভেরিয়েশন ধরে রেখে বোলিং করে।’
আফগান এই স্পিন বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত তাদের অধিনায়ক রশিদ খান স্বয়ং। এখন খুব আলোচিত এই স্পিনারকে নিয়ে সব প্রতিপক্ষই ভাবিত থাকে। তবে সাদমান বলছিলেন, তারা রশিদকে নিয়ে আলাদাভাবে ভাবনার কিছু আছে বলে মনে করেন না, ‘রশিদ খানকে নিয়ে বাড়তি কোনো ভাবনা নেই। কারণ টেস্ট ম্যাচ তো আমরা খেলি। শর্ট ফরম্যাটের বোলিং আর টেস্টে বোলিং দুইটা দুই জিনিস। তো আমরা এটা নিয়ে বাড়তি কোনো চিন্তা করছি না। আমরা যেভাবে স্পিন খেলি। আমাদের দেশে অনেক ভালো মানের স্পিনের বিপক্ষে খেলে থাকি আমরা, আমার মনে হয় না রশিদ খান আমাদের বাড়তি কোনো চাপ দিবে। এমন মনে হয় না কিছু।’
সাদমানকে এই আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাড়তি দায়িত্ব নিয়েই খেলতে হবে। এই টেস্টেও তিনি পাচ্ছেন না তামিম ইকবালকে। নিজের অভিষেক টেস্টেও তামিমকে পাননি। তাই এটাকে খুব বড়ো কোনো সমস্যা মনে করছেন না সাদমান। বলছেন, নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে চান, ‘আমার অভিষেক টেস্টেই তামিম ভাইকে পাইনি, সৌম্য ভাইর সঙ্গে ওপেনিং করেছিলাম। আমি যেমন ব্যাটিং করি, যেমন খেলি সে জায়গা থেকেই নিজের মতো খেলার চেষ্টা করব। আগে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই পরিকল্পনা থাকবে। প্রথম শ্রেণিতে যেভাবে খেলি বা ‘এ’ টিমের হয়ে যেভাবে খেলি সে রকম পরিকল্পনা থাকবে।’
সাদমানও মুমিনুল হকের মতো টেস্ট বিশেষজ্ঞ হয়ে যাচ্ছেন। ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খুব একটা খেলা হয় না। বাংলাদেশ দলেরও টেস্ট খেলা হয় কম। এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ায় সাদমান মনে করছেন, তার ও দলের টেস্টে উন্নতির একটা ভালো সুযোগ এসেছে, ‘তা তো অবশ্যই। এমনিতেই টেস্ট ম্যাচ অনেক কম খেলা হয় আমাদের। এবার সামনে আমাদের অনেক টেস্ট ম্যাচ। এগুলো ভালো করলে র?্যাংকিংয়েও অনেক এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। চেষ্টা থাকবে আমরা এখন যে প্র্যাকটিসটা করতেছি, পরে যে টেস্ট ম্যাচগুলো আছে সেগুলো ভালো করার। সবারই একটা পরিকল্পনা আছে টেস্ট ম্যাচ নিয়ে অবশ্যই আমরা ভালো খেলব।’
টেস্টে ভালো শুরু করা সাদমান অবশ্য নিউজিল্যান্ডে খুব ভালো করতে পারেননি। সে ব্যাপারে বলছিলেন, ‘হয়ত আমার কোনো ঘাটতি ছিল। সমাধান করতে পারিনি কারণ আমাদের বাউন্সি উইকেটে কোনো খেলা নেই। চেষ্টা করব পরবর্তীবার যদি যাই নিজেকে সেরকমভাবে তৈরি করে নিয়ে যাওয়ার। অবশ্যই আমি আমার সর্বোচ্চটা চেষ্টা করব।’