আমি অ্যাশেজ জিততে চাই —জোফরা আর্চার

জোফরা আর্চার নিজেকে অ্যাশেজের যোগ্য চরিত্র হিসেবেই প্রমাণ করছেন। মাঠে বল হাতে একটার পর একটা বাউন্সারে ঘায়েল করছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের, শরীরে বল লাগিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন তাদের মাঠের বাইরে। আর কথায় অস্ট্রেলিয়াকে জ্বালিয়ে দেওয়া শুরু করেছেন।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর  ওল্ড ট্রাফোর্ডে শুরু হবে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট। এর আগে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের পর ১-১ সমতা আছে সিরিজে। আর চতুর্থ টেস্টের আগে আর্চার অস্ট্রেলিয়াকে খোঁচা দিয়ে বললেন, তারা খুব আত্মতৃপ্ত হয়ে পড়ায় হেরে গেছে তৃতীয় টেস্ট। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডের এই ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার মনে করেন, তাদের অ্যাশেজ জয়ের এখন দারুণ সুযোগ আছে।

চতুর্থ ইনিংসে ৩৫৯ রান পার করে টেস্ট জয়টা ছেলেখেলা নয়। তাও আবার ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও সত্তরের বেশি রান করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। হেডিংলিতে এত বড়ো টার্গেট দেওয়ার পর ইংল্যান্ডের এতগুলো উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বেশি আত্মতৃপ্ত হয়ে পড়েছিলো বলে আর্চারের ধারণা,‘মূল ব্যাপার হলো, কখনোই আত্মতৃপ্ত হওয়া যাবে না। এটা সত্যি যে, ৩৫৯ অনেক রান। দর্শকরাও উঠে যেতে শুরু করেছিলো। আমার মনে হয়, তারা (অস্ট্রেলিয়া) পরের দিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলো। শুরুতে ওরা ভেবেছে, কয়েকটা উইকেট তাড়াতাড়ি নিয়ে নেওয়ার পর আমাদের গুঁড়িয়ে দেবে। কিন্তু সেটা ওরা পারেনি। আমি খুব খুশি যে, আমরা দারুণ প্রতিরোধ গড়তে পেরেছি। যার ফলে সিরিজ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমার মনে হয়, সামনের ম্যাচগুলোতে ওরা আর ইনিংস ঘোষণা করতে যাবে না!’

আর্চার মনে হরেন, হেডিংলি টেস্টে এই পরাজয় অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজের বাকি সময়টা জুড়ে তাড়া করে বেড়াবে। ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, ‘আমার মনে হয়, ওরা এরপর সুযোগ পেলেও খুব আক্রমণাত্মক আর হতে পারবে না। ওরা সিরিজ ড্র করতে পারলেও অ্যাশেজ ধরে রাখতে পারবে। তারা লম্বা সময় ধরে মাঠে ছিলো। এসব ছোটোখাটো ব্যাপার ওদেরকে পরের খেলাতেও তাড়া করে বেড়াবে।’

এই অ্যাশেজের লড়াইয়ের মধ্যে আরেকটা লড়াইও জমে উঠেছে—স্টিভেন স্মিথ বনাম জোফরা আর্চার। আর্চারের বলেই মাথায় আঘাত পেয়ে চেতনা হারিয়ে খেলা মিস করেছিলেন স্মিথ। ম্যানচেস্টারে স্মিথ ফিরে আসছেন। ফলে স্মিথ-আর্চার লড়াইটা আবার জমার কথা। স্মিথ এরই মধ্যে বলেছেন, তিনি এই লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন। কারণ, আর্চার তাকে আউট করতে পারেননি। আর্চার আবার বলেছেন, মাঠে থাকলে আউট করতে পারতেন তিনি স্মিথকে। খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘দেখুন, ও যদি মাঠেই না নামে, তাহলে ওকে তো আমি আউট করতে পারবো না। এরপরও ওকে আউট করার সুযোগ আসবে। আমি বলছি না যে, ওকে আউট করতে পারবো না। কিন্তু আউট না করলেই বা কী? ও এক প্রান্তে চল্লিশের মতো রান করে দাঁড়িয়ে থাকলো, আমরা বাকিদের আউট করে ফেললাম; তাহলে তো ওর দলের উপকার হলো না। সে একা নিশ্চয়ই সবকিছু করে ফেলতে পারবে না। আমরা ম্যাচ জিততে চাই। আমি কোনো একজন লোকের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়াতে চাই না। আমি অ্যাশেজ জিততে চাই।’