সেরেনা উইলিয়ামস স্বদেশি কিশোরী ক্যাটি ম্যাকনেলির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় নিয়ে ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন। একই রাউন্ডে পৌঁছেছেন শিরোপাপ্রত্যাশী রজার ফেদেরার ও নোভাক জকোভিচও।
রজার ফেদেরারের জয়টা অবশ্য সহজে আসেনি, বসনিয় প্রতিপক্ষ দামির জমহুরের বিপক্ষে প্রথম সেটে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ৩২ এর টিকিট কেটেছেন সুইস তারকা। অপরদিকে, চোটের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে পা রেখেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচ।
আগের ম্যাচে মারিয়া শারাপোভাকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সেরেনা। ধারণা করা হচ্ছিল—দ্বিতীয় রাউন্ডেও ১৭ বছর বয়সী ম্যাকনেলির বিপক্ষে সহজ জয়ই অপেক্ষা করছে গেল বারের ফাইনালিস্ট সেরেনার জন্য। কিন্তু ম্যাচ শুরুর পর অন্য দৃশ্যই দেখা যায়। ৫-৩ গেমে প্রথম সেটে জিতে নেন ম্যাকনেলি।
পরের সেটের মাঝ পর্যন্ত ম্যাচে কর্তৃত্ব ছিল তারই। কিন্তু এরপরই সেরেনার অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয় ম্যাকনেলিকে। শেষ দুই সেটে ৬-৩ ও ৬-১ গেমে জিতে তৃতীয় রাউন্ডে উঠে যান সেরেনা।
এমন জয়ের পর সেরেনা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বটে কিন্তু খুশি নন মোটেও। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে বেঁচে গেছি। যেভাবে আমি খেলেছি তাতে মোটেও খুশি নই আমি, কিন্তু মাঝে মাঝে এমন হয়ই, আমার টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমি কথা দিচ্ছি পরের রাউন্ড থেকে আরো ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
রেকর্ড ২৪ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের দুয়ারে থাকা সেরেনা তৃতীয় রাউন্ডে তাইওয়ানের খেলোয়াড় হসেইহ সু-ওয়েইর মুখোমুখি হবেন।
ফেদেরারও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। টেনিস র্যাংকিংয়ের ৯৯তম অবস্থানে থাকা খেলোয়াড় দামির জমহুরের কাছে টানা চারটি গেমে হেরে শুরু করা ফেদেরার ৩-৬ গেমে খুইয়েছিলেন প্রথম সেটটাও। কিন্তু এরপরই ম্যাচে ফেরেন ফেডেক্স। ৬-২, ৬-৩, ৬-৪ গেমে শেষ তিনটি সেট জিতেন তিনি।
প্রথম ম্যাচেও সুমিত নাগালের বিপক্ষে প্রথম সেটে হেরেছিলেন ফেদেরার। এবার দ্বিতীয় রাউন্ডেও কিছুটা ধীরগতির শুরুর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সুইস টেনিস তারকা, ‘ভালো ওয়ার্ম আপ, মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া এবং প্রতিপক্ষকে অবমূল্যায়ন না করা ছাড়া ভালো শুরুর অন্য কোনো রহস্য আছে কি না জানি না। কেননা আমি সবকিছুই করেছিলাম। যখন টানা ম্যাচে এমন হয় তখন এটা কিছুটা হতাশাজনক। তবে আমি চিন্তিত নই কেননা প্রথম সেট হারলে আমি আরো ভালো খেলি যেটা বেশ ভালো ব্যাপার।’
শিরোপাধারী নোভাক জকোভিচ চোট নিয়ে খেলেও আর্জেন্টাইন প্রতিপক্ষ হুয়ান লন্দেরোর বিপক্ষে সরাসরি সেটে জয় পেয়েছেন। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল তাকে। তবে কাঁধের এই চোট তার ৬-৪, ৭-৬, ৬-১ গেমের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
জকোভিচ জয়ের পর বলেন, ‘এটা অবশ্যই আমার সার্ভ আর ব্যাকহ্যান্ডে সমস্যা করছিল। একপর্যায়ে ম্যাচটা শেষ করতে পারব কি না তা নিয়েও সন্দেহ হচ্ছিল। তা করতে পেরেছি, তাতে আমি বেশ খুশি।’