ভারতে অক্টোবর মাস থেকে ছয়টি প্লাস্টিকজাত পণ্যের উত্পাদন, ব্যবহার ও আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত এলাকার তালিকায় থাকা ভারতের শহর ও গ্রামগুলো থেকে ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিকপণ্য তুলে নিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
২০২২ সালের মধ্যে প্লাস্টিকমুক্ত দেশ গড়ার ঘোষণা দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে এ পণ্যগুলো নিষিদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা পণ্যগুলো হচ্ছে—প্লাস্টিকের ব্যাগ, স্ট্র, প্লেট, ছোটো বোতল, কাপ ও শ্যাম্পুর মতো পণ্যের ছোটো প্যাকেট। “পণ্যগুলোর উত্পাদন, ব্যবহার এবং আমদানিও বিস্তৃত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে,” বলেছেন এক কর্মকর্তা। ভারতের পরিবেশ ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেবে। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি দেশকে ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিকপণ্য মুক্ত করতে ২ অক্টোবর ‘বড়ো পদক্ষেপ’ নিতে ভারতের জনগণ ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্লাস্টিক পণ্যের দূষণ, বিশেষ করে সমুদ্রে এর প্রভাব নিয়ে বিশ্ব জুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে।
গবেষণা বলছে, ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিকজাত পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশই সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে। ধ্বংস করছে সামুদ্রিক জীবনব্যবস্থা, ঢুকে পড়ছে মানুষের খাদ্য-শৃঙ্খলেও। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২১ সালের মধ্যে প্লাস্টিকজাত স্ট্র, ফর্ক, ছুরি ও কটন বাডের মতো পণ্য নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে। চীনের বাণিজ্যিক হাব সাংহাই ধারাবাহিকভাবে ক্যাটারিং শিল্পে ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিক পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনছে; দেশটির হাইনান প্রদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিক পণ্য পুরোপুরি অপসারণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতে বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ টন প্লাস্টিক লাগে; অক্টোবর থেকে ৬টি পণ্য নিষিদ্ধ হলে তা দেশটির মোট প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, জনসাধারণকে বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রাথমিকভাবে ছয় মাস নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানার বিধান থাকছে না। দেশটির বেশকিছু রাজ্যে এখনি পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে।