দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্কের পুনর্বিচারের আদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইয়ের মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানোর রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বর্তমানে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ঘুষ গ্রহণের দায়ে তার ভিন্ন সাজা হওয়া উচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পুনর্বিচারে দোষীসাব্যস্ত হলে দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের সাজার মেয়াদ বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সিউলের আদালতে পার্ক জিউনের বিচারে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। এতে বলা হয়েছে, পার্ক জিউনের বন্ধুর মেয়েকে স্যামসাংয়ের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ২৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের যে তিনটি ঘোড়া দিয়েছিল তাও ঘুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

পার্ক জিউন হাই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা তাকে অভিশংসনের পক্ষে রায় দেন। তখন থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পার্ক জিউন হাইকে অভিশংসন করা নিয়ে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। এরপর তিনি চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত এবং গ্রেফতার হন।

পার্ক জিউন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বন্ধু চোই সুন-সিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে ৬৫.৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে। ঐ অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হন। পার্ক জিউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বন্ধুকে ঐ অর্থ উত্তোলনে সাহায্য করেন। ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে সিউলের একটি আদালত।