রোহিঙ্গাদের মাঝে ৬ হাজার হাতিয়ার সরবরাহের চেষ্টা

এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন না নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ৬ হাজার পিস হাতিয়ার (নিড়ানিসদৃশ) তৈরির ঘটনায় এনজিও ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর ছয়টি প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উখিয়ার ভালুকিয়ায় এক কামারের দোকানে নির্মাণাধীন নিড়ানিসদৃশ এসব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে উখিয়া প্রশাসন। ‘মুক্তি কক্সবাজার’ এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোকে অবগত না করে গোপনে ঐ সব অস্ত্র তৈরি করে তা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মুক্তি কক্সবাজারের পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকনাফের হ্নীলার জাদিমুড়া এলাকায় চলমান হোস্ট কমিউনিটির চাষাবাদ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের পর তাদের সরবরাহ করতেই এসব নিড়ানি টেন্ডারের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছিল। তবে ৬০০ স্থানীয় লোক সেখানে প্রশিক্ষণ নিলেও ২ হাজার ৬০০ নিড়ানি তৈরি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়। এ বিষয়ে মুক্তি কক্সবাজারের দেওয়া উত্তর সন্তোষজনক ছিল না। মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, ‘আমাদের চলমান একটি প্রকল্পের নিড়ানি তৈরি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। না জেনে সংবাদকর্মীরা সেখানে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। যে কোনো এনজিওর ভালো-মন্দ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা তদন্ত করে দেখে এনজিও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এনজিও ব্যুরো। যেহেতু আমাদের প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে, সেহেতু তদন্তের স্বার্থে প্রকল্পগুলো স্থগিত করা হয়েছে।’

কৃষি বিভাগ বলছে, নিড়ানিসদৃশ যেসব বস্তু পাওয়া গেছে, তা কৃষিকাজে ব্যবহার্য নিড়ানির সাইজের সঙ্গে মেলে না। এসব নিড়ানি সাইজে হাতলসহ সর্বোচ্চ এক ফুট দৈর্ঘ্যের হয়। কিন্তু উখিয়ায় উদ্ধার নিড়ানিসদৃশ বস্তুগুলোরে দৈর্ঘ্য প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর এসাইনমেন্ট অফিসার সিরাজুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক পত্রে মুক্তি কক্সবাজারের ছয়টি প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই পত্রে স্থগিত করে দেওয়া প্রকল্পগুলো হলো নন-ফরমাল এডুকেশন ফর দ্য চিলড্রেন অব রোহিঙ্গা, স্ট্রেইং রিসাইলেন্স অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি অব রোহিঙ্গা অ্যান্ড হোস্ট কমিউনিটি অব টেকনাফ, ইমপ্রুভ অব ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন ফর রোহিঙ্গা অ্যান্ড হোস্ট কমিউনিটি, এনহেন্সিং লার্নিং আউটকাম ফর রোহিঙ্গা ইন উখিয়া, ইমপ্রুভ ওয়াস থ্রো ফিক্যাল স্লাগড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাথিং কিউরিক্যাল ফর রোহিঙ্গা ও প্রোটেকশন ইনিশিয়েটিভ ফর আনকমপেনিড অর অরফান চিলড্রেন ইন কক্সবাজার।

বিমল চন্দ্র দে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুক্তি কক্সবাজারের ৩০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। আশা করছি এনজিও ব্যুরো তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের কোনো অনিয়ম পাবে না। তখন আবারও এসব প্রকল্প সচল করার অনুমতি দেবে এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর পাঠানো একটি পত্রের কপি পেয়েছি। এনজিও মুক্তি কক্সবাজারসহ অন্যান্য এনজিওর কার্যক্রম আরো গভীরভাবে নজরে নিতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি অনভিপ্রেত। এনজিও ব্যুরোর পত্রটি অফিসে এসেছে। মুক্তি কক্সবাজারসহ সবার কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।