রাজধানীর শ্যামলীর একটি অফিসে চাকরির সাক্ষাত্কারের সময় তরুণীকে অজ্ঞান করে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি ফাহিম আহমেদ ফয়েজকে (৩০) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেস চৌধুরী রিমান্ডের এ আদেশ দেন। শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ আসামি ফাহিম আহমেদ ফয়েজকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির আবেদনের পর ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার তরুণী শেরেবাংলা নগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার পর ফয়েজকে বুধবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় নাহিদ নামে আরো একজন পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী ঐ তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে ঘটনার সময় ঐ ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তরুণীর ভাষ্যমতে, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগাযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা থানাধীন ৩ নম্বর সড়কের ৩৫/১/বি ভবনের ৫ম তলায় হেলথ ভিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যান তিনি। সেখানে একটি প্যাথলজিক্যাল রুমে চেতনানাশক মেশানো পানীয় পান করিয়ে অচেতন করার পর তাকে গণধর্ষণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ফয়েজ ঐ বেসরকারি ক্লিনিকে প্যাথলজি বিভাগে চাকরি করে।
ঐ তরুণীর বরাত দিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানে আলম বলেন, ধানমণ্ডির একটি ব্যাচেলর মেসে থেকে ঐ তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনে পড়াশুনা করেন। ঘটনার দিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি ফয়েজকে দেখেছেন এবং ফয়েজ তাকে বাসা থেকে চলে যেতে বলে। যে গ্লাস দিয়ে ঐ তরুণীকে কোক খাওয়ানো হয়েছিল সে গ্লাস জব্দ করা হয়েছে।