অণুগল্প

তুমি এসেছিলে

 

তুমি এসেছিলে। এসেই আঁকড়ে ধরেছিলে মাথাটা। যেন বা আমার চুলের গভীরে ডুব দিয়ে খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কের তারতন্ত্র দখলে নিয়ে দিব্যি চালাবে শাসন।

তুমি যে আসছ, তা টের পেয়েছিলাম আগেভাগেই। গলির মোড়ে ট্রাম্পেট বাজছিল, আকাশে পোঁচ লেগেছিল কয়েক প্রস্থ বাড়তি রঙের। আর বাতাসে ভেসে এসেছিল যে ফুলের গন্ধ, তা এক কালে আমাজনের বৃষ্টি জঙ্গলে ফুটে উঠত বলে আন্দাজ করেছিল ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। তুমি যেভাবে আসো, ঠিক সেভাবেই এলে। দরজায় নক নেই, বাড়ির কেউ টের পেল না তাই। জানালা গলে এসেছ বলে দাবি তুলতে অক্ষম নিন্দুকও। কিভাবে তুমি এসে গেলে, তার রহস্যময়তা এবারও টের পেতে দাওনি। কেবল এসে গেছ বলে জানিয়ে দিলে গভীরতার আলিঙ্গনের রাগ বেহাগে। আমিও এসে গেছ তুমি ভেবে নিঃসাড় হয়ে যাই, তোমাতে বুঁদ হতে হতে বিড়বিড় করে জপি তোমারই শরীরের শব্দমাখা নামাবলি। আমার শরীর ভারী হতে হতে উষ্ণ হয়, উষ্ণতা কাটিয়ে তীব্র শীতলতাও জাঁকিয়ে বসে হঠাত্। আমি বুঝি, তুমি সত্যিই এসে গেছ। আমি শুনতে পাই, তুমি বলছ, আর সব কাজ বাদ, তুমি কেবল নিমগ্ন হও আমাতেই। নিমগ্নতার সোনার কাঠি তুমি তোমার মাথাতে ছোঁয়াও, রূপার কাঠি ছোঁয়াও পায়ে। তখনি জেগে উঠব আমি নিরাকার থেকে আকারে।

চাদর বিছিয়ে নিমগ্নতার এতেকাফে বসতে না বসতেই পুরো বাড়িটাতে নড়ে ওঠে কড়িকাঠ দরজা জানালা পাপোশ হাঁড়িপাতিল চালের বোয়েম চালতার আচার কয়টা কাঁচামরিচ দিলে তরকারির ঝাল কন্ট্রোল এবং ডিমের সঙ্গে আলু না বড়ি নাকি উভয়কামী ডিম তরকারি ও আরো এরকম সুরে বেজে ওঠে গান—জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে।

তুমি তখনো ছিলে। আলমারির আড়ালে দম নিচ্ছিলে। অভিমান ভুলে আবারো যখন কাছে এলে, আবারো বেজে ওঠা টেলিফোনের রিং টোনে বেশি বেশি পাওয়ার সুর তোমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল জানালার বাইরে। দিব্যি দেখতে পেলাম, তোমার চোখে নেমে গেছে ছায়া, গগনে গগনে ডাকে দেয়া, আহা!

ওখানেই ঝুলে ছিলে ক’দিন। বলতে দ্বিধা নেই, তোমাকে হাত ধরে টেনে নেব, সেই ফুরসত পেতে হাত থেকে সাফ করছিলাম দিনযাপনের ব্যস্ততার ময়লা। আজকাল শ্যাওলারাও বেড়ে ওঠে বড় দ্রুত। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে এরকম হতে পারে কি না জানতে গুগলেও বসেছিলাম একফাঁকে।

প্রিয় গল্প আমার, এরপর তোমাকে আর পাইনি। তুমি এসেছিলে, তারপর চলে গেছ। তুমি যেভাবে যাও, সেভাবেই তো গেলে। তোমাকে যেভাবে যেতে হয়, সেভাবেই যেতে হলো বলে তুমি কি আর কখনো আসবে আমার কাছে? আসবে কি?