কপোতাক্ষ নদের ওপর স্থাপিত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা ব্রিজ ছয় লেনে উন্নীত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর কাজ শুরু হবে। এমন খবরে খুশি এ পথ দিয়ে যাতায়াতকারীরা। তাদের দাবি দ্রুত যেন কাজটি শুরু হয়।
ঢাকা-খুলনা-যশোরের সঙ্গে স্থলবন্দর বেনাপোলের সংযোগকারী মহাসড়কের ঝিকরগাছা বাজার ব্রিজটি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ আকার ধারণ করেছে যে ব্রিজের ওপর একাধিক ভারী যানবাহন উঠলেই কম্পন শুরু হয়।
বাঁকড়া গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, ভারী যানবাহন উঠলেই কম্পন শুরু হয় ঝিকরগাছা ব্রিজে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। এ অবস্থায় থাকলে যেকোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নতুন ব্রিজের দাবি করেছিলাম। সরকার সেই দাবি পূরণ করতে যাচ্ছে। দ্রুত ব্রিজটি তৈরি দেখতে চাই।
রফিকুল ইসলাম বলেন, নড়বড়ে ও সরু হওয়ার কারণে ব্রিজের দুই পাশে যানজট লেগেই থাকে। ঘটে ছোটো বড়ো দুর্ঘটনা। এতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
ঝিকরগাছা বাজারের হাশেম মোল্লা বলেন, ব্রিজের যে অবস্থা, তাতে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এটার কাজ শুরু করতে হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আমাদের পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সড়কের বিকল্প নেই। তবে বর্তমানে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা দীর্ঘদিন দাবি করে আসছি যশোর-বেনাপোল সড়কটি বড়ো করার। সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ঝিকরগাছা ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের। অবশেষে সরকার এদিকে নজর দিয়েছে। ব্রিজটি ছয় লেন করার কাজ শুরু করেছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঝিকরগাছা শহরের বর্তমানের ২৪ ফুটের ব্রিজটি ১০০ ফুট প্রস্থে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এজন্য ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২.০৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ১৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৫ কোটি টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চেক প্রদান করা হবে।