আবু তোরাব, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের পশ্চিম চরবরমা সড়কের নিশিকান্ত খালের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নড়বড়ে এই ব্রিজ ভেঙে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেইলি ব্রিজটির করুণ অবস্থা। স্টিলের ফ্রেমের ওপর বসানো কাঠের পাটাতনগুলো বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। এতে ব্রিজে তৈরি হয়েছে ছোটো-বড়ো গর্ত। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে রিকশাসহ ছোটোখাটো যানবাহন। পথচারীদেরও ব্রিজটি পারাপারে দেখেশুনে পা ফেলতে হচ্ছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরমা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে যাওয়া পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পশ্চিম চরবরমা সড়কটি একসময় ছিল সংকীর্ণ। ১৯৯১ সালে সড়কটি এলজিইডির আধীনে সংস্কার করে প্রশস্ত করা হয় এবং সড়কের নীশিকান্ত খালের ওপর সড়ক বিভাগ ঐ বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে। স্টিলের পাতের ওপর বিছানো কাঠের পাটাতন। তখন থেকে ব্রিজটির আর কোনো ধরনের সংস্কার না করায় বর্তমানে কাঠের পাটাতনগুলো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে বেইলি ব্রিজটির বেহাল অবস্থা হলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বরমা ইউনিয়নের এই সড়ক দিয়ে এলাকার ২ হাজারের অধিক পরিবারের লোকজন হাটবাজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে শহরে যাতায়াত করে। এছাড়া বরকল এম জেড উচ্চ বিদ্যালয়, বরমা ডিগ্রি কলেজ, বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। এদিকে সড়কটিও নানা স্থানে খানাখন্দ সষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে সড়কটিতে ইট বিছানোর সময় বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে কোনো মেরামত করা হয়নি।
এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রীর কথায় সড়ক বিভাগ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল। পরে তা আবার এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।