সুমনা ইয়াসমিন
বাংলাদেশে অটিজম শিশুদের কল্যাণে ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় এবং ৩৯টি উপজেলায় ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে অটিজম কর্নার। বিভিন্ন সেনানিবাসে চালু করা হয়েছে ‘প্রয়াস’ নামের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধীদের অসহায় অবস্থার অবসানে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ২০১১ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছিল বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় পরামর্শ কমিটির চেয়ারপারসন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের এ সম্পর্কিত মানবিক কার্যক্রম জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমাজে অনেক দানশীল, সমাজসেবক, পরোপকারী, জনহিতকর ব্যক্তি রয়েছেন যাঁরা মানুষের সেবাকে ব্রত মনে করেন। তারপরও তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অন্ধ এবং জন্মগতভাবে অস্বাভাবিক শিশুদের নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় না। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দেশের বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যেভাবে কাজ করেছেন তা আমাদের জন্য গর্বের।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে সমাজে অটিজমকে এক সময় পাপ-অভিশাপ ভাবা হতো। অটিস্টিক শিশুদের সমাজের বোঝা মনে করা হতো। সমাজসেবায় কিছু সংগঠন কাজ করলেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা পরিবারের কাছেও ছিল অবহেলিত। অটিজম মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। দক্ষ-অভিজ্ঞ প্রশিক্ষিতদের তত্ত্বাবধান, বিশেষ শিক্ষা কর্মসূচির ব্যবস্থা, খেলাধুলা, শরীর চর্চা, বইপড়া, প্রত্যেক প্রতিবন্ধী শিশুর বিশেষ চাহিদা পূরণ, বিকলাঙ্গ শিশুদের আর্থিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং মানসিক-শারীরিক অটিস্টিক শিশুদের উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি ও তাদের জন্য অবকাঠামোগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সাধারণ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিশতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিবিড় শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রত্যেক প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালার আওতায় ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
অটিস্টিকদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা প্রদান, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপিসহ অন্য চিকিত্সা প্রদানের জন্য ৬৪ জেলায় ১০৩ প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র স্থাপন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ঘরে বসে প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সরকারের পদক্ষেপসহ সরকাার চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা রাখা প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের বড় উপহার।
আমাদের সমাজের অনেকেই আছেন যাঁরা প্রতিবন্ধীদের অবহেলা করেন। তাঁদের জানা উচিত প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তাদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিশেষ দায় থাকা উচিত। প্রতবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে আমাদের সবাইকে। বিশেষ করে যারা প্রতিবন্ধী নয় তাদেরকেও। প্রতিবন্ধীদেরও সমান সুযোগ নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ হচ্ছে অনেক। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগামী। কিন্তু তারপরও প্রতিবন্ধীরা সামাজিকভাবে এখনো পুরোপুরি অধিকারপ্রাপ্ত হয়নি। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিই এজন্য দায়ী।
ঢাকা