জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের দায়িত্ব

মোশারফ হোসেন

 

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা—ভূমিকম্প, উষ্ণতা বৃদ্ধি, শীতলতা, নদীর নাব্য হ্রাস, পাহাড়ি ভূমি ধস, অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা, অনাবৃষ্টি, মরুকরণ, খরা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, বজ্রপাত, সুনামি, ভূস্তরের ফাটল, দাবানল, উল্কাপাত, অগ্ন্যুত্পাত, তুষারপাত ইত্যাদি। আগামী দিনগুলোতে পৃথিবীকে মোকাবিলা করতে হবে তীব্র দাবদাহ, বন্যা, সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ-বালাই, খাদ্য সংকট, মেরুতে বরফ গলা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বৃদ্ধি। উত্পাদিত ফসলের পুষ্টিমান হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে ফসলের পুষ্টি উপাদান যেমন জিংক, আয়রন কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানবদেহের ওপর। এখানেই শেষ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসল উত্পাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাবে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ঘাটতি, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে প্রকাশিত বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্যের প্রতিবেদন ২০১৯-এ বলা হয়েছে—বিশ্বের জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্য প্রায় ৫৭% মনুষ্য সৃষ্ট, প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ আহরণ। জীববৈচিত্র্যের বেড়ে ওঠার এলাকা কমে যাওয়া, পরিবেশদূষণ ও ভূমির ধরনের পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে। তাই কালক্ষেপণ না করে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. জীববৈচিত্র্যকে চিরবিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে সর্বাগ্রে জানতে ও বুঝতে হবে কী এই মুহূর্তে দরকার।

২. বনাঞ্চল বৃদ্ধির বিকল্প নেই এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদের আবাসস্থলের সুরক্ষা।               

৩. পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার।

৪. পরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণ। শিল্পবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন, নদী নাব্য রাখার ব্যবস্থা করা, আন্তঃনদী সংযোগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সার-বিষ ও কীটনাশক ব্যবহার। এক্ষেত্রে সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি অবলম্বন, জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো খুব দরকার।

৫. টেকসই উন্নয়ন, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন বাড়ানো। আন্তর্জাতিক সকল পরিবেশ আন্দোলনে শুধু একটি বা দুটি দেশকে সম্পৃক্ত না করে সকল দেশ একসঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হওয়া।

৬. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গৃহীত সকল কর্মসূচি ও বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত স্ব-স্ব দেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করতে হবে।

৭. আঞ্চলিক সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা।

৮. পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য যেটি মাটিতে মেশে না এমন জিনিস বাদ দিয়ে পচনশীল দ্রব্য, পরিবেশের জন্য উপযোগী, স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো। এক্ষেত্রে পাট তৈরি পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারের বিকল্প নেই।

সর্বোপরি জনসচেতনতা ও সত্য জীবন দর্শনমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। যাতে পরিবেশকে ধ্বংস না করে সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ঢাকা