বিবিসি
শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন নাদেসালিঙ্গম ও প্রিয়া। পরে সেখানে তারা বিয়ে করেন। তামিল এ দম্পতির দুইটি কন্যা রয়েছে, যাদের জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়।
নাদেসালিঙ্গম পরিবার নিয়ে কুইন্সল্যান্ডের ছোটো শহর বিলোয়েলায় বসবাস করতেন। তারা শরণার্থী নন জানিয়েছে গত বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ। পরিবারটিকে জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। অভিবাসন কর্মকর্তারা যখন নাদেসালিঙ্গমের পরিবারকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেয়। নাদেসালিঙ্গমের পরিবারকে ফিরিয়ে আনতে একটি পিটিশনও দায়ের করা হয়, যাতে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। যার জেরে পরিবারটিকে বিতাড়নের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ জারি করলে বিমানবন্দর থেকে শেষ মুহূর্তে তাদের শ্রীলঙ্কাগামী উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিলোয়েলায় গত মার্চের এ ঘটনা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। পরিবারটির পক্ষের লোকজন বলেন, অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শ্রীলঙ্কা ফেরার পর তাদের নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা আইনি প্রক্রিয়া চলার পর গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিতাড়নের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান। ঐ দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তারা আমাদের দেশের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নন।” অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ঐ পরিবারের আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি। যদিও তার আগেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কর্তৃপক্ষ অনেকটা গোপনে পরিবারটিকে মেলবর্ন বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে শ্রীলঙ্কাগামী উড়োজাহাজে তুলে দিয়েছিল। উড়োজাহাজ থেকে অনলাইনে নাদেসালিঙ্গম তার পরিবারকে বিতাড়নের হাত থেকে বাঁচানোর আবেদন করেন।
যা জানতে পেরে শরণার্থীদের অধিকারের পক্ষে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা বিতাড়ন আটকাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে ফেডারেল আদালতের দ্বারস্ত হন এবং তাদের ছোটো মেয়ের বিতাড়ন স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী বুধবার পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হন। বিচারকের আদেশ পাওয়ার পর স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে এবং নিরাপত্তারক্ষীরা পরিবারটিকে বের করে নিয়ে আসে।