বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছ কিনছেন না এমন ক্রেতা এখন কমই আছে। বড়ো বড়ো তাজা ইলিশ দেখে ভোজনরসিকদের লোভ সংবরণ করা সত্যিই কঠিন। আর দামেও-তো তুলনামূলক সস্তা। তাই অন্য মাছ নয়, এখন মৌসুম ইলিশের। সময় ইলিশ খাওয়ার।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার ও আব্দুল্লাপুর মাছের আড়তসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের প্রচুর আমদানি। মাঝারি থেকে বড়ো সব ধরনের ইলিশই রয়েছে।
কমতি নেই ক্রেতারও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশ হলেই চলবে না। সেটা পদ্মার না সাগরের সেটা দেখতে হবে। কারণ, পদ্মার ইলিশে তেল থাকায় খেতে সুস্বাদু। তাই লম্বায় নয়, প্রস্থ দেখে ইলিশ কিনতে হবে। কারণ, পদ্মার ইলিশের প্রস্থ মোটা হয়।
গতকাল আব্দুল্লাপুর মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের বেশ ভিড়। অন্য মাছ নয়, বেশিরভাগ ক্রেতাদের আগ্রহ ইলিশের প্রতি। এই আড়তে ভোর থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীদের ভিড় থাকে। এরপর সকাল ৮টার পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে সাধারণ ক্রেতাদের। আড়ত হওয়ায় অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে একটু কম দামে মাছ পাওয়া যায় বলে ক্রেতারা জানান। এই আড়তে ( খুচরা পর্যায়ে) গতকাল এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া মাঝারি আকারের ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয় সাড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
আব্দুল্লাপুর আড়তের মাছ ব্যবসায়ী বেলায়েত জানান, অন্যান্য মাছের তুলনায় এখন ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। সস্তায় এখন বেশ বড়ো বড়ো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকায়। এখন তা ১ হাজারেই পাওয়া যাচ্ছে। সামনে ইলিশের সরবরাহ আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।
পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল, কমেছে
আদা-রসুনের দাম
কোরবানির ঈদের পর হুহু করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলেও এখন দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গত তিন/চার দিনে নতুন করে দাম বাড়েনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহজুড়ে এ দরেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
কিন্তু ঈদের আগে আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্য প্রদেশসহ পেঁয়াজের বড়ো সরবরাহকারী রাজ্যগুলোতে বন্যা হওয়ায় দেশে পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এদিকে গত প্রায় দুই মাস ধরে চড়া দামে আদা, রসুন বিক্রি হলেও এখন দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে গতকাল দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া মানভেদে আদা কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলো—ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।