বরগুনার রিফাত হত্যা মামলা

দুই শর্তে জামিন হলেও কারাগার থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না মিন্নি

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বৃহস্পতিবার দুই শর্তে হাইকোর্ট জামিন দিলেও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। শর্ত দুটি হলো-প্রথমত মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না এবং দ্বিতীয়ত বাবার জিম্মায় থাকবেন মিন্নি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মিন্নিকে জামিনে মুক্ত করতে এখনও চার থেকে পাঁচদিন সময় লাগবে বলে জানান মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।

অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম গতকাল শুক্রবার এ প্রতিবেদককে বলেন, হাইকোর্টে দেওয়া মিন্নির জামিনের আদেশের কপি ডাকযোগে বরগুনার আদালতে পৌঁছাতে হবে। এই আদেশে মিন্নির জামিনের বিষয়ে বরগুনার যে কোনো একটি আদালতের কথা উল্লেখ থাকবে। সেই আদালতে মিন্নির জামিনের জন্য মিস কেসের মাধ্যমে বন্ড দাখিল করতে হবে। আদালতে মিস কেস দাখিলের পর আইনানুগভাবে মিন্নির জামিনের আদেশ পৌঁছাবে বরগুনা কারাগারে। এরপর মিন্নি কারাগার থেকে মুক্তি পাবে।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবার ও পরেরদিন শনিবার আদালত বন্ধ। বৃহস্পতিবার যদি বিচারপতিদ্বয় মিন্নির জামিন আদেশে স্বাক্ষরও করেন, তাহলেও স্বাক্ষরিত ঐ জামিন আদেশ ডাকযোগে আগামী সোমবার কিংবা মঙ্গলবার বরগুনা আদালতে পৌঁছাবে। তাই আগামী সোমবার কিংবা মঙ্গলবারের আগে কারাগার থেকে মিন্নির মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাড. মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, জামিন আদেশের মাধ্যমে যেসব রুল নিষ্পত্তি হয়, সেসব জামিন সাধারণত স্থায়ী জামিন হয়। জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি জামিন আদেশে উল্লিখিত শর্ত ভঙ্গ করলে তার জামিন বাতিল হয়ে যায়। যেহেতু মিন্নির বিষয়ে জামিন আদেশের মাধ্যমে রুল নিষ্পত্তি হয়েছে, তাই জামিন আদেশে উল্লিখিত শর্ত ভঙ্গ না করলে মিন্নি স্থায়ী জামিনে থাকবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, উচ্চআদালত কারো জামিনের আদেশ প্রদান করলেও সেই আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে আরো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ জন্য সময় লাগে। সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে মিন্নির জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মিন্নি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।